সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই : সম্মিলিত হয়ে ঘোষণা দিল তুরস্কের নানা মত – পথের ধর্মীয় নেতারা

0
ছবিতে হাতায় শহরের মুফতি হামিদী কাভিলিগলু (বামে), ইহুদি কমুনিটি ফাউন্ডেশনের প্রধান সল চিনুদিগঅলু (মাঝে), ইস্টার্ন অর্থডক্স চার্চ ফাউন্ডেশনের প্রধান ফদি হুরিগিলাম (ডানে)
ছবিতে হাতায় শহরের মুফতি হামিদী কাভিলিগলু (বামে), ইহুদি কমুনিটি ফাউন্ডেশনের প্রধান সল চিনুদিগঅলু (মাঝে), ইস্টার্ন অর্থডক্স চার্চ ফাউন্ডেশনের প্রধান ফদি হুরিগিলাম (ডানে)

টিডিএন বাংলা ডেস্ক, তুরস্ক : প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে, উন্নত আগ্নেয়াস্ত্র সামগ্রী আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত রাজনিতীর আঙিনায় সন্ত্রাসবাদের চরিত্রেও বদল এসেছে।বিশ্ব জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে সহসা হানা দিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করাই এদের মুল লক্ষ্য। কিন্তু দু:খজনক ভাবে প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রেই সন্ত্রাসীদের ধর্মীয় বিশ্বাস কেই দায়ী করা হয়। ধর্মের সঙ্গে বারুদের গন্ধ মিশিয়ে এক ‘ধর্মিয়-আতঙ্ক’ বিশ্বকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।প্যারীস হামলা থেকে শুরু করে ব্রুসেলস প্রতিটি ক্ষেত্রেই আঁততায়ীদের নাম অর্থাৎ ধর্মীয় পরিচয়কেই দোষারোপ করা হচ্ছে। যদিও ওবামা ও এরদাগোনের মতো তাবড় বিশ্বনেতারা এসব হুজুগে কখন আমল দেন নি।

ঘন-ঘন সন্ত্রাসবাদী হামলায় তুরস্কে কিন্তু এই ধরনের ধর্মীয় আতঙ্ক ছড়াতে ব্যাস্ত। ‘ইসলামোফোবিয়া’ বিষয়টি কে মাথায় রেখে তুরস্কের হায়তা শহরে ইসলাম সহ ইহুদি, খ্রীষ্টান প্রভৃতি ধর্মের নেতৃত্ব স্হানীয় ব্যাক্তিরা একটি সভায় সম্মিলিতভাবে ঘটমান সবধরনের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নীন্দা করেন এবং দেশব্যাপী শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার ডাক দেন।

স্হানীয় সংবাদমাধ্যম আনাদুলু এজেন্সি কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুফতি হামদি কাভিলিওগলু বলেন, “ইসলাম শান্তি ও সহিষ্নুতার ধর্ম, যা কিনা চৌদ্দোশো বছর আগে নবী মোহাম্মাদ(স:) প্রবর্তন করেন।”
তিনি কোরাণ ও হাদীস থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলেন,”যে ব্যাক্তি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করলো সে যেন সমগ্র মানবজাতি হত্যা করলো। আর যে ব্যাক্তি কারো জীবন বাঁচালো সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে জীবন দিলো।”
তুরস্কের সীমান্ত সংলগ্ন প্রাচীন শহর হায়তা হল আন্তাওলিয়া সভ্যতার প্রতীকি পিঠস্হান যেখানে চার্চ, সিনেগগ, মসজিদ এবং তার বিশ্বাসী মানুষজন একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্হানের মধ্য দিয়ে শত শত বছর অতিবাহিত করে আসছে।

হায়তি জীউস কম্যিউনুটি ফাউন্ডেশনের প্রধান সাউল সেনুদিওগলুও সন্ত্রাসবদের তীব্র বিরোধিতা করে জানান,”আমাদের ধর্মীয় প্রার্থনা গৃহ আলাদা হতে পারে। আমরা সিনেগগে প্রার্থনা করি, খ্রীষ্টানরা চার্চে, আবার ইসলাম ধর্মানুসারীরা মসজিদে যায় প্রার্থনার জন্য। কিন্তু আমাদের উপাসনার উৎস কিন্তু সেই একই, আমরা সবাই এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী। কোন ধর্মই বলেনা মানুষ হত্যা করো আল্লাহুআকবর (ঈশ্বর মহান) বলে।
খ্রীষ্টান অর্থডক্স চার্চের প্রধান ফাদি হুরিগিলম দারুণ উপমার সাহায্যে সন্ত্রাসবাদকে খন্ডন করেন,”যদিও আমাদের চোখের বর্ণগত পার্থক্য দেখা যায় কিন্তু আমাদের সকলের চোখের জল একইরকম। যদি আমাদের কারো কোনো ক্ষতি হয় আমরা সবাই একইভারে কাঁদি, এবং একই রকমের ব্যাথা বেদনা অনুভব করি।
উল্লেখ্য, তুরস্কে গত বছরের জুলাই থেকে এখনো পর্যন্ত প্রায় ১১০০ জন মারা গেছে যার মধ্যে ৮০০ জন নিরপত্তারক্ষী এবং সাধারণ মানুষ ও সিকিউরিটি সহ আরো ৬০০০ জন আহত হয়।

ছবিতে হাতায় শহরের মুফতি হামিদী কাভিলিগলু (বামে), ইহুদি কমুনিটি ফাউন্ডেশনের প্রধান সল চিনুদিগঅলু (মাঝে), ইস্টার্ন অর্থডক্স চার্চ ফাউন্ডেশনের প্রধান ফদি হুরিগিলাম (ডানে)