বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মামলার রায় কাল, দেশ জুড়ে মোতায়েন বিজিবি

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে সামনে রেখে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির সদর দফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোহসিন রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবির সদস্যরাও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা প্রশাসনের অনুরোধে সিরাজগঞ্জে ৩ প্লাটুন, বগুড়ায় ৩ প্লাটুন, নারায়ণগঞ্জে ৩ প্লাটুন, নোয়াখালীতে ১ প্লাটুন ও চাঁদপুরে ১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয় দুপুরের পর থেকেই। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে রাজধানী ঢাকায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদের ভয়ে ভীত হয়ে এ হীন পথ খুঁজে নিয়েছে সরকার। তারা সারাদেশে বিভীষিকা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।’ জনগণের প্রতিবাদের সম্ভাবনাকে তারা এতটাই ভয় পায়— এই বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, ‘আদালত রায় দেওয়ার বহু আগে থেকেই শাসক মহল চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে, আমার জেল হবে। যেন বিচারক নন, ক্ষমতাসীনরাই রায় ঠিক করে দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে চাপের মুখে পদত্যাগ করিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করার পর কোনও আদালত শাসকদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করতে সাহস পাবে কিনা— তা নিয়ে সবারই সন্দেহ আছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারপরও দেশবাসীর উদ্দেশে সগৌরবে জানাতে চাই, আপনাদের খালেদা জিয়া কোনও অন্যায় করেনি, কোনও দুর্নীতি আমি করিনি।’
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কুয়েতের তৎকালীন আমিরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তার নামকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কুয়েতের আমির অনুদান প্রদান করেন। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্নেল (অব.) মুস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে নিয়ে আসা সেই অর্থের বিলি-বণ্টন, তহবিল পরিচালনা অর্থাৎ জিয়া অরফানেজের সঙ্গে আমি কখনোই কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। তাছাড়া, এই অর্থ সরকারি অর্থ নয়, ট্রাস্টটিও প্রাইভেট ট্রাস্ট।’
বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, ‘ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এই মিথ্যা মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। আমার আইনজীবীরা আদালতে তা প্রমাণ করেছেন।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জিয়া অরফানেজের একটি টাকাও তছরুপ হয়নি। সব টাকা প্রতিষ্ঠানের নামেই ব্যাংকে জমা আছে। এখন সুদ-আসলে সেই টাকা বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। এ মিথ্যা মামলায় ন্যায়বিচার হলে আমার কিছুই হবে না। ইনশাল্লাহ আমি বেকসুর খালাস পাবো।’