টিডিএন বাংলা ডেস্ক: তুর্কী প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, আর্মেনিয়ার সাথে তুরস্কের সম্পর্ক তখনই সচল হবে যখন দেশটির কারাবাখা অঞ্চল (পূর্ব আর্মেনিয়ার একটি অঞ্চল) নিয়ে দু-দেশের মধ্যকার সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি আরো বলেন, আঙ্কারা প্রতিবেশীদের জন্য ততক্ষণ অবধি সীমান্ত খুলে দিবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত আর্মেনিয়া আজেরি অঞ্চলে(এই অঞ্চলে তুর্কি বংশোদ্ভূত লোকজনের বসবাস) তার কর্তৃত্ব ত্যাগ না করে।আজারবাইজানের বাকু শহরকে ইসলামিক সেনাদের দ্বারা মুক্ত করার ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া এক ভাষণে এরদোগান এসব কথা বলেন।এরদোগান এসময় ১৯৯২ সালে ঘটে যাওয়া খোজলেই গণহত্যার কথা স্মরণ করেন। ১৯৯২ সালের সংঘটিত ওই গণহত্যায় ১০০ জনেরও অধিক আজারবাইজানী নাগরিক নিহত হয়েছিল।

এরদোগান বলেন, ‘যারা আজারবাইজানের ২০ শতাংশ ভূমি দখল করে রেখেছে এবং ১ মিলিয়নেরও অধিক আজারবাইজানী নাগরিককে তাদের ভূমিতে প্রবেশ করতে বাঁধা দিচ্ছে তাদের এটা আশা করা উচিত নয় যে, তুরস্ক তাদের জন্য তার সীমান্ত খুলে দেবে।’প্রসঙ্গত, আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে কয়েক দশক ধরে কারাবাখা অঞ্চল নিয়ে বিরোধ বিদ্যমান। ১৯৯১ সালে কারাবাখা অঞ্চল আর্মেনিয়ার সেনাদের দ্বারা আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অঞ্চলটিতে শান্তি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।১৯৯২ সালে আর্মেনিয়ার সৈন্যরা কারাবাখা অঞ্চলের খোজালেই নামক শহর দখল করে নেয়। আজারবাইজানের এক হিসেব অনুযায়ী সেসময় অন্তত ৬১৩ জন আজারবাইজানী নাগরিককে হত্যা করা হয় যাদের মধ্যে ১১৬ জন নারী ছিল। এমনকি ১৫০ আজারবাইজানীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল যাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

‘দুই রাষ্ট্র, এক জাতি’

এরদোগান শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২.৩০ এর দিকে আজারবাইজানের বিমান বন্দরে পৌঁছান। সেখানে এরদোগানকে আজারবাইজানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইগুব ইউবোভ, ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রামিজ হাসানোভ এবং অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা অভ্যর্থনা জানান। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এরদোগান বলেছেন, ‘আমরা একসাথে বাকু শহরের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি। আমরা তাদের স্মরণ করছি যারা শহরটিকে মুক্ত করার জন্য তাদের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিল। আমরা বাকু শহরের জন্য জীবন উৎসর্গকারী ১,১৩২ জন স্বাধীনতাকামীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’ইসলামিক সেনাদের দ্বারা বাকু শহর মুক্ত হওয়ার আজকের এই দিনের মত তুরস্ক এবং আজারবাইজান একই সূত্রে গাঁথা হয়ে থাকবে। এই দুই দেশ মূলত এই অর্থ বহন করবে যার মানে দাঁড়ায় ‘দুই রাষ্ট্র কিন্তু এক জাতি’। বিবৃতিটিতে এমনটি জানানো হয়। সীমান্ত অতিক্রম করার জন্য যে হামলা চালানো হচ্ছে তা আজেরি শহরের দিকেই দৃষ্টিপাতকরছেবাকু শহরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ১ ঘণ্টা পূর্বে আর্মেনিয়ার সৈন্যরা আজারবাইজানের আজেরি শহরের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলি বর্ষণ করেছে বলে আজেরি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান।প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, আজারবাইজানের তোভুজ, তাতার এবং আগহাদাম শহরকে লক্ষ্য করে আর্মেনিয়ার সেনার শুক্রবার রাতে থেকে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেছে যা শনিবার সকাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। যদিও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায় নি, তবে কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। আজেরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে জানানো হয়, আজেরি সৈন্যরা প্রতিশোধমূলক পাল্টা গুলি বর্ষণ করেছে।