টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ইরানের ‘জামি আত তাওয়ারিখ’ গ্রন্থকে বিশ্বের ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে স্থানীয় সময় সোমবার সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) ইরিনা বোকোভা এই ঘোষণা দেন।


গত ২৪-২৭ অক্টোবর পর্যন্ত বৈঠক করে বিশ্বের ৭৮টি নতুন বিষয় ও ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইউনেসকোর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইএসি)।
আইএসির এই কমিটিতে ছিলেন ১৫ জন বিশেষজ্ঞ। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে নতুন করে প্রস্তাব করা ঐতিহাসিক দলিল পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করেন। দুই বছরের প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬-১৭ সালের জন্য দলিলগুলোকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ তালিকায় ৪৩ নম্বরে পারস্যে মোঙ্গল ইলখানাতে লিখিত সাহিত্য ও ইতিহাস গ্রন্থ ‘জামি আত তাওয়ারিখ’কে স্থান দেওয়া হয়েছে। গ্রন্থটির লেখক রশিদউদ্দিন হামাদানি (১২৪৭–১৩১৮) ১৪শ’ শতাব্দীর শুরুতে এটি রচনা করেন।


ব্যাপ্তির কারণে একে ‘প্রথম বিশ্ব ইতিহাস’ বলা হয়। গ্রন্থটির তিনটি খণ্ড ছিল। এর ফারসি, আরবি ও মোঙ্গল সংস্করণ রয়েছে। এতে রয়েছে চীন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্কৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির বিবরণ।


গ্রন্থের জাঁকজমকপূরণ চিত্রাঙ্কন ও হস্তলিপিতে কয়েকশ লিপিকার ও শিল্পীর প্রয়োজন ছিল। প্রায় ২০টি চিত্রায়িত কপি রশিদউদ্দিনের জীবদ্দশায় প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে এগুলোর অল্প কিছু অংশ টিকে রয়েছে। সম্পূর্ণ কপি বর্তমানে পাওয়া যায় না। সবচেয়ে পুরোনো কপিটি আরবি ভাষায়। এর অর্ধেক হারিয়ে গেছে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে একটি কপি রয়েছে। ইস্তানবুলের তোপকাপি প্রাসাদের গ্রন্থাগারে প্রথম যুগের দুটি ফারসি পান্ডুলিপি রয়েহে। এগুলো ইলখানাত শিল্প ও পারস্য অনুচিত্রের নিদর্শন।