চার বছরে ২১ উপনির্বাচন : মাত্র ৪টিতে জিতেছে বিজেপি, তবে কি শেষের শুরু?

0
টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ত্রিপুরায় বিজেপির বিশাল জয়লাভের রেশ কাটার আগেই উপনির্বাচনের ফলাফলে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে বিজেপি বড় ধাক্কা খেয়েছে। এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে হওয়া উপনির্বাচনেও বিজেপি পরাজয় দেখেছে। গত চার বছরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হওয়া ২১টি উপনির্বাচনের মধ্যে মাত্র চারটিতে বিজেপি জয়লাভ করেছে। বাকিগুলিতে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। যেসব আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে সেখানে ব্যবধান আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে।
২০১৪ সালে যেখানে বিজেপির এমপির সংখ্যা ছিল ২৮২, সেখানে উপনির্বাচনে হারের পর এ সংখ্যা কমে এসেছে ২৭২টিতে। অর্থাৎ ১০টি জেতা আসন বিজেপিকে খোয়াতে হয়েছে। তবে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর গোরক্ষপুর ও ফুলপুর আসন দুটি ছিল বিজেপির প্রেস্টিজ কেন্দ্র। সেই কেন্দ্র দুটিতেই ঝড় তুলে জয়ী হয়েছে সমাজবাদী পার্টি। আর এটা সম্ভব হয়েছে পরস্পর বিরোধী দুই শক্তি বহুজন সমাজ পার্টি ও সমাজবাদী পার্টির হাত মেলানোর ফলে। সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন জানিয়ে বহুজন সমাজ পার্টি দুটি আসনেই প্রার্থী দেয়নি। গোরখপুর ও ফুলপুর লোকসভা আসন দুটিতেই বিজেপিকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছে সমাজবাদী পার্টি। অথচ মাত্র এক বছর আগে বিরোধীদের উড়িয়ে দিয়ে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সেই উত্তরপ্রদেশে অত্যন্ত মর্যাদার দুটি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে গোহারা শাসক দল বিজেপিকে শঙ্কিত করেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই এই পরাজয়ের কারণ। বিজেপি নেতা তথা উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব মৌর্য্য স্বীকার করেছেন যে, সপার বাক্সে বসপার ভোট চলে যাবে, তা প্রত্যাশা করি নি আমরা। বিজেপির এই পরাজয়ে উৎফুল্ল হয়েছেন রাহুল গান্ধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত সকলে। বুধবার গণনা খানিকটা এগোনোর পর জয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই ‘বুয়া-ভাতিজা জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল পথঘাট। মায়াবতীর সঙ্গে দেখা করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হাত মেলানোর মনোভাব যত শক্তিশালী হবে ততই বিজেপির সামনে বিপদ অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে বিহারের আরারিয়া কেন্দ্রটি লালু প্রসাদের রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টির হাত থেকে বিজেপি ছিনিয়ে নিতে পারেনি। তবে দুটি বিধানসভার আসনের উপনির্বাচনের একটিতে বিজেপি জিতলেও জেহানাবাদ কেন্দ্রটি লালু দলের হাতেই থেকে গিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে সোনিয়া গান্ধীর দেওয়া নৈশভোজে ২০টি বিরোধী দলের নেতারা মিলিত হয়েছিলেন শুধু বিজেপিকে ঠেকানোর দায়ে। মঙ্গলবার দশ জনপথে ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর আমন্ত্রণে নৈশভোজে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের ২০ বিজেপি বিরোধী দল। ২০১৯ সালে মোদীর দলকে মোকাবেলা করার নীতি নির্ধারণ করতেই এই নৈশভোজের আয়োজন হয়েছিল।