হিংসা ও দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়ার ডাক এসআইও-র সর্বভারতীয় সমাবেশে, উপস্থিত ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি

0

সেখ শানাওয়াজ আলি, টিডিএন বাংলা, নয়াদিল্লি : ছাত্র সংগঠন এসআইও আদর্শ ছাত্র সমাজ ও দেশ গঠনের জন্য “সংকল্প আত্মসম্মানের, সংগ্রাম ভবিষ্যৎ নির্মাণের” শীর্ষক ২৩, ২৪ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি ৩ দিন ব্যাপী ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেছে রাজধানীতে। উক্ত সম্মেলনের প্রথম দিন শুক্রবার মঞ্চে শোনা যায় দেশব্যাপী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার কথা। পাশাপাশি দেশুজড়ে চলমান হিংসা, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতন থেকে দেশকে মুক্ত করার ডাকও দেওয়া হয় এই সম্মেলন থেকে।


এই জনসভায় জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সর্বভারতীয় সভাপতি জালালুদ্দিন উমরি বলেন, ‘আমি আশা রাখি যেভাবে ভীড় জমিয়ে ছাত্রযুবরা এই কনফারেন্সে এসেছে তারা এইভাবেই সমাজ ও দেশের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তিনি আরো বলেন, এসআইও এমন একটি সংগঠন যেখানে ছাত্র যুবরা নীতিবোধের সাথে সাথে সমাজের কাজে ভূমিকা রাখতে শেখে। এই কাজটাই করে আসছে এসআইও।

একই মঞ্চে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সর্বভারতীয় সম্পাদক সাদাতুল্লাহ হুসাইনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে চক্রান্ত চলছে, তবুও তারা ইসলামের অগ্রগতিকে রুখতে সক্ষম হয়নি। কারণ ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। যেটা একটি সুন্দর রাজনৈতিক, সমাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আপনাদের উপর দায়িত্ব এই দেশের প্রতিটা মানুষের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া এবং আদিবাসী, সংখ্যালঘু সহ সারা দুনিয়ার মানুষের কল্যাণ করা। আমরা চাই মহিলারা প্রকৃত সম্মান পাক। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আগামীর ভারত হবে দূর্নীতিমুক্ত। প্রতিটা কলেজে মেয়েদের সম্মানহানি হবেনা। আর এই মুক্ত করার বিশেষ দায়িত্ব করে মুসলিমদের। আমাদের কাজ সুন্দর একটি দেশ গঠন করা। প্রতিটা মুসলিম ছাত্র যদি তার ছাত্রজীবনে দায়িত্ব সহকারে ইসলামের সত্যটি কিছু কিছু জনের কাছে পৌঁছে দেয় আগামী ১৫ বছরের মধ্যে আমরা একটি সুন্দর দেশ গঠন করতে সক্ষম হবো।’


এসআইও-র সর্বভারতীয় সভাপতি নাহাস মালা বলেন, ইসলামের পথেই একমাত্র পূর্ন মুক্তি রয়েছে। এই সমাজ, এই দেশকে একমাত্র ইসলামই একটা সুন্দর সমাজ উপহার দিতে পারে। এর জন্য হয়ত অনেক কঠিন রাস্তা অতিক্রম করতে হবে। দেশের ছাত্র যুবদের ব্যাপক ভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, এই দেশের সম্প্রীতি রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছাত্রযুবদের রাখতে হবে। দেশে কোন সামপ্রদায়িক দাঙ্গা, হানাহানি না হয় তার জন্য চারদিকে আমাদের শান্তি ও সম্প্রতির বাণী ছড়িয়ে দিতে হবে।

এছাড়াও এই অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির নেতৃত্ববৃন্দ ও দেশ-বিদেশ থেকে আগত বুদ্ধিজীবীরা। এই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতে নিযুক্ত প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূতের তরফ থেকে আগত প্রতিনিধি ওয়ায়েল আল বাতার্কি,  প্যালেস্টাইনের করুণ কথা শোনান এবং আল আকসার মসজিদ ইস্যুতে ভারতীয়দের প্যালেস্টাইনের পাশে থাকার জন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি  জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণায় ট্রাম্পের তীব্র নিন্দা করেন এবং ইসরাইলী সন্ত্রাসবাদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইসরাইলী সেনারা জোরপূর্বক প্যালেস্টাইনের স্থানগুলি দখল করে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর অত্যাচার করছে। ইসরাইলী সেনার হানায় প্রতিদিন বহু সংখ্যক ফিলিস্তিনি নাগরিক তাদের বাস করার ঘর হারাচ্ছেন। ইসরাইলের সেনারা ফিলিস্তিনের ছোট ছোট শিশুদের উপর অমানবিক অত্যাচার করে, তাদের হাত থেকে মহিলারাও রক্ষা পাই না।


তিনি আরো বলেন, তারা প্যালেস্টাইনের গাজা শহরে রকেট হানা চালিয়ে শহরটি প্রায় ধ্বংস করে চলেছে। আর ট্রাম্প কাজে শক্তি জুগিয়ে চলেছে ইসরাইলকে। তবুও ফিলিস্তিনিরা মার্কিনি ও ইসরাইলের  সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে চলেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। তিনি বলেন, এতে কোন সন্দেহ নেই পবিত্র জেরুজালেম শহর কোন সাধারণ শহর নয়, এটি নবী মুহাম্মদ (সা:), মুসা ও ঈশার শহর। এটি কোটি কোটি মুসলমানের প্রাণকেন্দ্র।