সম্প্রীতির নজির যোগির রাজ্যে, মুসলিমদের সম্মানে মন্দিরে ইফতার

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : দেশজুড়ে যখন উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মুসলিমরা কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন, তখন উত্তরপ্রদেশের এক মন্দিরে দেখা গেল ভিন্ন এক পরিবেশ। লখনউর গোমতী নদীর তীরবর্তী প্রাচীন মেনকামেশ্বর মন্দিরে বিশালভাবে আয়োজন করা হলো মুসলিমদের সম্মানে ইফতারের। পুরোহিতরা নিজে ইফতার পরিবেশন করলেন আগন্তুক রোজাদার অতিথিদের জন্য। খাদ্য তালিকায় মাংস ছাড়া সবই ছিল।


অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্থানীয় নামকরা আলেম উলামারাও। নারী এবং পুরুষ রোজাদারদের জন্য আলাদা আলাদা জায়গায় আয়োজন করা হয় ইফতারের। উপস্থিত আলেমদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা খালিদ রশিদ ফিরঙ্গী মহলী, তিলি ওয়ালি মসজিদের ইমাম মাওলানা ফজলুর মান্না রাহমানী, মাওলানা সুফিয়ান নিজামী, নবাব জাফর মীর আব্দুল্লাহ, নবাব মাসুদ আব্দুল প্রমুখ।

মহন্ত দিব্বগিরি নামে আয়োজকদের একজন বলেন, হিন্দুরা মুসলিমদের উৎসবে যোগ দেয়া, আবার মুসলিমরা হিন্দুদের উৎসবে যোগ দেয়া- এটা শত শত বছর ধরে দেশজুড়ে এটা ঐতিহ্য হিসেবেই চলে আসছে।

‘এই সময়টাতে আমরা হিন্দুরাও নয়টি বেদ মঙ্গলও পালন করি। এসময়ে একটি ভাল কাজ করলে তার বদলে ৭০ গুন বেশি পুণ্য মিলে। পুণ্য অর্জনের জন্য রোজাদারদেরকে কিছু খাওয়ানোর চেয়ে ভাল উপায় আর কী হতে পারে?’ বলেন মহন্ত দিব্বগিরি। মেনকামেশ্বর মন্দিরটি প্রায় এক হাজার বছর পুরোনো। মন্দিরের পাশেই ভারতের বিখ্যাত মাদ্রাসা দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা অবস্থিত। দেশে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে বহু উত্থান পতন ঘটলেও পাশাপাশি দুটি মন্দির ও মাদ্রাসা শত বছর ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলেছে।

(সূত্র: ডেকান ক্রনিকল)

tdn_bangla_ads