কেন্দ্রীয় সরকার ও এনআইএকে তোপ এসআইও’র কনফারেন্সে, জিগনেশের কটাক্ষ মোদিকে

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, নয়াদিল্লি : জামিয়া নগরে তিন দিনব্যাপী এসআইও-র সর্বভারতীয় ছাত্র সমাবেশের দ্বিতীয় দিন শনিবার গুজরাতের দলিত নেতা তথা বিধায়ক জিগনেশ মেওয়ানী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘মোদিজির দিন এখন শেষ, তাই তাকে নিয়ে আমরা আলোচনা করে সময় নষ্ট করবো না। বরং আমরা একটি নতুন ভারতে গড়ার কথা ভাববো।’

তিনি অভিযোগ করেন, টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় এক প্রতিবেদনে বলা হয়ে হয়েছে, ‘আমাকে কিভাবে এনকাউন্টার করা যায় সে নিয়ে গুজরাত পুলিশ অধিককারিকরা আলোচনা করছিল একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রূপে। সেই গ্রূপে থাকা সাংবাদিকরা এই খবর প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। আমি মোদিজিকে বলবো, যদি আপনি এক শতাংশ হলেও ভারতীয় সংবিধানকে সম্মান করেন, তবে এইসব পুলিশ আধিকারিকগুলোর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিয়ে দেখান।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন জনপ্রতিনিধি বিধায়ক হয়েও আমাকে যদি এনকাউন্টারের কথা পুলিশ ভাবতে পারে, তাহলে একটু চিন্তা করুন সেইসব ২০০০ মুসলিমের কি হয়েছিল গুজরাতে?’

জিগনেশের কথায়, গুজরাতে আমরা আসন কমিয়ে দিয়েছি এবং আগামী ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে মোদিকে গদি থেকে নামিয়ে দেবো এবং আমরা একটা নতুন ভারত গড়বো। যে ভারত হবে গরিবের, কৃষকের, শ্রমিকের, হিন্দু-মুসলিমের, খ্রিস্টানের, দলিতের, আদিবাসীদের। আমাদের সকলের চাই সুন্দর শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, বাসস্থান, খাবার, মৌলিক অধিকার। এইরকম সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন করার জন্য এসআইও-কে তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

দ্বিতীয় দিনের কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন, কুইল ফাউন্ডেশনের পরিচালক তথা বিশিষ্ট তথ্যচিত্র নির্মাতা সুহেল কেকে। তিনি বলেন, ‘ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নষ্ট করছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ), যাদের তৈরি করা হয়েছিল সন্ত্রাসবাদের উপর তদন্ত করার জন্য। দুর্ভাগ্যবশত তারা এখন ‘বিয়ে’ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষ করে যদি সেই বিয়ে ‘হিন্দু-মুসলিম’ বিয়ে হয়। তারা খুঁটিয়ে দেখবে তাতে জঙ্গিযোগ আছে কিনা।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি কেরলের ‘হাদিয়া-শাফিন’-এর বিয়ে ইস্যু তুলে ধরেন।

এসআইও-র ছাত্র সম্মলনে শনিবার আরটিই ফোরামের ন্যাশনাল কনভেনর আম্বারিষ রায় বলেন, শিক্ষার অধিকার থেকে পিছিয়ে রয়েছে দেশ। শিক্ষার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে সরকারকে। বর্তমান কেন্দ্র সরকার শিক্ষার ক্ষেত্রেও ধর্মের ভেদাভেদ করছে। তিনি আরও বলেন, গরিব হিন্দু-মুসলিমের সমস্যা এক। সবার রোজকার প্রয়োজন, সবার কর্ম দরকার। তাই আমাদের এই পুঁজিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে একসাথে লড়তে হবে।