টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জম্মু ও কাশ্মীরে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) সাথে তাদের জোট ভেঙ্গে তিন বছরের পুরনো সরকারের পতন ঘটিয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে রাজ্যসভা নির্বাচন এবং ২০১৯ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখেই বিজেপি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি জঙ্গিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় এবং কাশ্মীর ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলিবিনিময়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রদায়িক কৌশল বাস্তবায়ন করা বিজেপির জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে।

বিজেপি সরকার ছাড়ার পর দলের জেনারেল সেক্রেটারি রাম মাধব তার বিবৃতিতে এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মাধব বলেছেন: “দেশের বৃহত্তর নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার কথা বিবেচনা করে এবং রাজ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, রাজ্যের ক্ষমতা গভর্নরের হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন যে, ‘এমনকি গভর্নরের শাসন চালুর পরও’ সন্ত্রাসবাদ দমনে বিজেপির তৎপরতা চলতে থাকবে।
সবাই জানেন গভর্নরের শাসন মানে প্রেসিডেন্টের শাসন। এর অর্থ হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শাসন, পার্লামেন্টে যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কাশ্মীর এখন তাই সত্যিকার অর্থে মোদির হাতে রয়েছে। সাম্প্রদায়িক নির্বাচনী এজেন্ডা বাস্তবায়ন এখন সহজ হয়ে গেছে বিজেপির জন্য।

বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া অভিযান, পাকিস্তানের সাথে অব্যাহত সঙঘাত এবং মেরুদণ্ডহীন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণার কারণে বিজেপি হয়তো রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ আর ছত্তিশগড়ের নির্বাচনে ক্ষমতায় টিকে যাবে। দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় অবশ্য এই সম্ভাবনা খানিকটা কম।

সম্প্রতি বেশ কিছু রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে বিজেপি হেরে যাওয়ায় তাদের মূল সাম্প্রদায়িক এজেন্ডাগুলো আবার সক্রিয় করাটা তাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।

গত দুই বছরে ছয়টি লোকসভা আসনে হেরে যাওয়ার পর সম্প্রতি আরও দুটো আসনে হেরে গেছে বিজেপি যে আসনগুলোতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা জিতেছিল।

এই পরাজয়ের পর জোটভুক্ত দলগুলোকে বাদ দিলে ৫৪৫ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিজেপির মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭৩ টিতে। মোট আসনের অর্ধেক থেকে মাত্র একটি আসন বেশি রয়েছে এখন বিজেপির।

সম্প্রতি এগারোটি রাজ্যসভার নির্বাচনে বিজেপি খুব একটা ভালো করতে পারেনি। দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের আশা করেছিল বিজেপি। কিন্তু বিরোধী দলগুলো সময় মতো জোট গড়ায় বিজেপি ব্যর্থ হয়েছে।

অর্থনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় বিজেপি এখন তার আদি সাম্প্রদায়িক এজেন্ডাতে ফিরে গেছে।
১০০০ টাকার নোট তুলে নেয়ার পরও কালো টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। ভারতকে একটি একক কর ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে যে জেনারেল সেলস ট্যাক্স (জিএসটি) আরোপ করা হয়েছিল, নানা জটিলতার কারণে সেটিও কার্যকর হয়নি। মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পরিকল্পনাও মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে ফিরে গিয়ে বিজেপি এখন মুসলিমদের উপর হামলা এবং খ্রিস্টানদের হয়রানি করার জন্য হিন্দুদের উসকে দিচ্ছে। গরুর মাংস খাওয়া বা বিক্রি করা এমনকি গবাদি পশুর বাজারে গরু নিয়ে যাওয়ার কারণে মুসলিমদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

কিন্তু সাম্প্রদায়িক কৌশল বিজেপিকে কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নির্যাতনের কারণে মুসলিমরা গণহারে বিজেপির বিরুদ্ধে চলে গেছে এবং উত্তর প্রদেশ ও বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। উত্তর প্রদেশে মন্দিরের পুরোহিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যোগি আদিত্যনাথ এবং তার সহকারী উপনির্বাচনে তাদের পার্লামেন্টারি আসন হারিয়েছেন।

কিন্তু বিজেপির দেয়ার মতো বিকল্প কোন পরিকল্পনা নেই। নির্বাচনে লড়বার জন্য সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা ছাড়া তাদের আর কোন খুঁটি নেই।

চীনের সাথে সীমান্ত সমস্যা কমে আসায়, এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে উহান ও কিংদাওতে মোদির আলোচনার পর বেইজিংয়ের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হওয়ায় পূর্ব ফ্রন্টে যুদ্ধের এখন কোন আশঙ্কা নেই। এই সুযোগে পুরো সামরিক শক্তি এখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছেন মোদি।

আগে যেমনটা বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে সীমান্তে ঘন ঘন সঙঘাত বজায় রাখলে মুসলিম পাকিস্তানের সাথে উত্তেজনাটা উচ্চ পর্যায়ে থাকবে এবং ভারতে হিন্দুদের সাম্প্রদায়িক আবেগ জাগিয়ে রাখাটা এতে সহজ হবে।

প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে পিডিপির সাথে জোট ভেঙ্গে দেয়া এবং সরকার বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত এসেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট অমিত শাহের কাছ থেকে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিজেপি দলীয় মন্ত্রীদের সাথে সোমবার জাতীয় রাজধানীতে বৈ

নির্বাচনের আগে হিন্দু-মুসলিম বিভেদ বাড়াতেই কাশ্মীর সরকারকে ডুবিয়ে দিলো বিজেপি!

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জম্মু ও কাশ্মীরে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) সাথে তাদের জোট ভেঙ্গে তিন বছরের পুরনো সরকারের পতন ঘটিয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে রাজ্যসভা নির্বাচন এবং ২০১৯ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখেই বিজেপি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি জঙ্গিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় এবং কাশ্মীর ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলিবিনিময়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রদায়িক কৌশল বাস্তবায়ন করা বিজেপির জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে।

বিজেপি সরকার ছাড়ার পর দলের জেনারেল সেক্রেটারি রাম মাধব তার বিবৃতিতে এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মাধব বলেছেন: “দেশের বৃহত্তর নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার কথা বিবেচনা করে এবং রাজ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, রাজ্যের ক্ষমতা গভর্নরের হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন যে, ‘এমনকি গভর্নরের শাসন চালুর পরও’ সন্ত্রাসবাদ দমনে বিজেপির তৎপরতা চলতে থাকবে।
সবাই জানেন গভর্নরের শাসন মানে প্রেসিডেন্টের শাসন। এর অর্থ হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শাসন, পার্লামেন্টে যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কাশ্মীর এখন তাই সত্যিকার অর্থে মোদির হাতে রয়েছে। সাম্প্রদায়িক নির্বাচনী এজেন্ডা বাস্তবায়ন এখন সহজ হয়ে গেছে বিজেপির জন্য।

বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া অভিযান, পাকিস্তানের সাথে অব্যাহত সঙঘাত এবং মেরুদণ্ডহীন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণার কারণে বিজেপি হয়তো রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ আর ছত্তিশগড়ের নির্বাচনে ক্ষমতায় টিকে যাবে। দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় অবশ্য এই সম্ভাবনা খানিকটা কম।

সম্প্রতি বেশ কিছু রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে বিজেপি হেরে যাওয়ায় তাদের মূল সাম্প্রদায়িক এজেন্ডাগুলো আবার সক্রিয় করাটা তাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।

গত দুই বছরে ছয়টি লোকসভা আসনে হেরে যাওয়ার পর সম্প্রতি আরও দুটো আসনে হেরে গেছে বিজেপি যে আসনগুলোতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা জিতেছিল।

এই পরাজয়ের পর জোটভুক্ত দলগুলোকে বাদ দিলে ৫৪৫ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিজেপির মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭৩ টিতে। মোট আসনের অর্ধেক থেকে মাত্র একটি আসন বেশি রয়েছে এখন বিজেপির।

সম্প্রতি এগারোটি রাজ্যসভার নির্বাচনে বিজেপি খুব একটা ভালো করতে পারেনি। দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের আশা করেছিল বিজেপি। কিন্তু বিরোধী দলগুলো সময় মতো জোট গড়ায় বিজেপি ব্যর্থ হয়েছে।

অর্থনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় বিজেপি এখন তার আদি সাম্প্রদায়িক এজেন্ডাতে ফিরে গেছে।
১০০০ টাকার নোট তুলে নেয়ার পরও কালো টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। ভারতকে একটি একক কর ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে যে জেনারেল সেলস ট্যাক্স (জিএসটি) আরোপ করা হয়েছিল, নানা জটিলতার কারণে সেটিও কার্যকর হয়নি। মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পরিকল্পনাও মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে ফিরে গিয়ে বিজেপি এখন মুসলিমদের উপর হামলা এবং খ্রিস্টানদের হয়রানি করার জন্য হিন্দুদের উসকে দিচ্ছে। গরুর মাংস খাওয়া বা বিক্রি করা এমনকি গবাদি পশুর বাজারে গরু নিয়ে যাওয়ার কারণে মুসলিমদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

কিন্তু সাম্প্রদায়িক কৌশল বিজেপিকে কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নির্যাতনের কারণে মুসলিমরা গণহারে বিজেপির বিরুদ্ধে চলে গেছে এবং উত্তর প্রদেশ ও বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। উত্তর প্রদেশে মন্দিরের পুরোহিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যোগি আদিত্যনাথ এবং তার সহকারী উপনির্বাচনে তাদের পার্লামেন্টারি আসন হারিয়েছেন।

কিন্তু বিজেপির দেয়ার মতো বিকল্প কোন পরিকল্পনা নেই। নির্বাচনে লড়বার জন্য সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা ছাড়া তাদের আর কোন খুঁটি নেই।

চীনের সাথে সীমান্ত সমস্যা কমে আসায়, এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে উহান ও কিংদাওতে মোদির আলোচনার পর বেইজিংয়ের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হওয়ায় পূর্ব ফ্রন্টে যুদ্ধের এখন কোন আশঙ্কা নেই। এই সুযোগে পুরো সামরিক শক্তি এখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছেন মোদি।

আগে যেমনটা বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে সীমান্তে ঘন ঘন সঙঘাত বজায় রাখলে মুসলিম পাকিস্তানের সাথে উত্তেজনাটা উচ্চ পর্যায়ে থাকবে এবং ভারতে হিন্দুদের সাম্প্রদায়িক আবেগ জাগিয়ে রাখাটা এতে সহজ হবে।

প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে পিডিপির সাথে জোট ভেঙ্গে দেয়া এবং সরকার বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত এসেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট অমিত শাহের কাছ থেকে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিজেপি দলীয় মন্ত্রীদের সাথে সোমবার জাতীয় রাজধানীতে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত দেন অমিত শাহ।

২০১৪ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যসভা নির্বাচনে ২৮টি ও ২৫টি আসনে জিতে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয় পিডিপি ও বিজেপি। এরপর তারা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। মুখ্যমন্ত্রী হন প্রয়াত মুফতি মোহাম্মদ সাইদ। এক বছরের মাথায় মুফতির মৃত্যু হলে তার মেয়ে মেহবুবা মুফতি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
কিন্তু পিডিপি আর বিজেপির পার্থক্যটা বিশাল। কোন বিষয়েই তারা সেই অর্থে একমত হতে পারেননি। আর সবচেয়ে বেশি বিরোধ ছিল কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসনের দাবি, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে আলোচনা এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের ইস্যুগুলো নিয়ে।

ইতোমধ্যে, কাশ্মীর উপত্যকায় সহিংসতা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক খ্যাতনামা সাংবাদিক সুজাত বুখারি এবং অগণিত বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হুররিয়াত।

হুররিয়াতের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ঈদের পর থেকে হত্যাযজ্ঞ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তিনজন যুবককে নির্দয়ভাবে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। চতুর্থজন শ্রীনগরের প্রধান হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে”।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করে হুররিয়াত তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “গ্রামবাসীদের নির্দয়ভাবে পেটানো হয়েছে, তাদেরকে হয়রানি করা হয়েছে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। নামকরা সাংবাদিক সুজাত বুখারিকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার প্রতিবাদেও এই ধর্মঘট পালিত হবে”।

কেন্দ্রীয় সরকার রমজান উপলক্ষ্যে যে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল, পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিলের প্রধান সাইয়েদ সালাহউদ্দিনও এটা প্রত্যাখ্যান করেছেন। রমজানের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে জঙ্গিরা।
রমজানের শুরুতে তাই যে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, সেটা আর বর্ধিত করার চিন্তা করেনি সরকার।

জঙ্গিরা প্রায় দুই ডজন গ্রেনেড হামলা করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে বেশ কিছু হতাহতও হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতীয় ও পাকিস্তানী বাহিনীর অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের ফলেও হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, “কিছু এলাকায় প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই এলাকায় এক দল জঙ্গি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে”। পুলিশ আরও জানায় কিছু এলাকা পুরোপুরি সিল করে দেয়া হয়েছে, যাতে ওখান থেকে কেউ বের হতে না পারে।

তথ্যসূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর