এমনই সৎ নেতা খুঁজছে দেশ, ৪ বারের বিধায়ক থাকেন ভাঙ্গাচোরা টিনের চালের ঘরে

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : যে কোনও বিধানসভা আসন থেকে টানা ৪ বার বিধায়ক-এর পদে টিকে থাকা, তাও আবার সততার সঙ্গে। শুনতে সহজ মনে হলেও, বর্তমান সময়ে তা অত্যন্ত কঠিন। যে কোনও পার্টি এমন নেতাকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখবে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে ঘটেছে ঠিক তার উল্টো। খান্ডবার রঘুরাজ সিং তোমার ৪ বছর বিধায়ক থাকা সত্বেও তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। এরপর ২০০৩ সালের পর থেকে তিনি আর নির্বাচন লড়েননি। এখন তিনি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দিন গুজরান করছেন। রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেলেও, আজও তিনি একজন সৎ সমাজসেবী হিসেবে নিজের কাজ করে চলেছেন।

দলীয় নেতাদের গাড়ি, বাড়ি, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের ঠাটবাটের মাঝে আজ এমনও নেতা রয়েছেন, যিনি ভাঙ্গা কুঁড়েঘরে বাস করছেন সম্মানের সঙ্গে। ইনি রাণা রঘুরাজ সিং তোমার। চারবার বিজেপি বিধায়ক থাকার পর ২০০৩ সালে তিনি আবারও প্রার্থী হওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে টিকিট দেওয়ার শর্তে ১৪ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। অত্যন্ত সৎ এই নেতা সেই টাকা না দিয়ে সরে দাঁড়ান এই নোংরা রাজনীতি থেকে।

এতগুলি বছর বিধায়ক থাকার পরও আজ তিনি একটি ভাঙ্গাচোরা ঘরে বাস করছেন। নিজের ঘরের ভাঙ্গা টিন বদলানোর টাকাও নেই আজ তাঁর কাছে। সম্পত্তি বলতে বাড়ির সামনে অচল হয়ে পড়ে থাকা একটি জিপগাড়ি। ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে একসময় এই গাড়িটি তিনি কিনেছিলেন। তিনি নিমানখেড়ি বিধানসভা আসনে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০, ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫, ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ এবং ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন।

বিধায়ক থাকা অবস্থাতেই তিনি সাধারণ মানুষের স্বার্থে নিজ সরকারের বিরুদ্ধেই অনশনে বসেছিলেন। ১৯৭১১৯৭৫ সালে তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল। বিধায়ক থাকার সময়েও তিনি টিকিট কেটে বাসে সফর করতেন। রঘুরাজ সিং জানান, তাঁর কাছে ১৪০ একর পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া জমি ছিল। বিধায়ক থাকাকালীন তিনি এক ইঞ্চি জমিও কিনতে পারেননি।

রঘুরাজ সিং তোমার আরও বলেন, ‘আমি বিধায়ক থাকার সময় এনবিডিএ-র ১৮টি কোয়ার্টার ভেঙ্গে পড়েছিল। আমি বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করেছিলাম। এরপরই কিছু আধিকারিক আমাকে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়ার অফার দিয়েছিল। আমি তাঁদের ভৎর্সনা করে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম। ইউরিয়া খাবারে মুরুম মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করার বিষয়টিও আমি বিধানসভায় তুলেছিলাম। এরপর কারখানা মালিক আমাকে ১৫ লক্ষ টাকার লোভ দেখিয়েছিল। আমি তাঁকেও তাড়িয়ে দিয়েছিলাম। এমন অনেক ঘটনা আছে, কিন্তু আমি কারও কাছে এক কাপ চাও খায়নি।’

tdn_bangla_ads