ত্রিপুরার পরাজয় নিয়ে সিপিআইএম এবং বামপন্থীদের গভীর আত্মানুসন্ধান করা উচিৎ

0

প্রসেনজিৎ বসু, টিডিএন বাংলা : ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে বিজেপি-আইপিএফটি জোটের কাছে বামফ্রন্টের পরাজয় ঘটেছে। বিজেপি যেভাবে ২৫ বছরের বাম সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছে সেটা উদ্বেগজনক। বামফ্রন্টের ভোট ২০১৩ বিধানসভা নির্বাচনে ৫২% এবং ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ৬৪% থেকে ২০১৮তে নেমে হয়েছে ৪৫%। সিপিআইএম এবং বামপন্থীদের এই বিষয়ে গভীর আত্মানুসন্ধান করা উচিৎ। বিশেষত বাম সরকার পরিচালনার পদ্ধতি এবং বাম সরকারের কর্মসূচীগুলি যথার্থ বিকল্প হিসেবে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কিনা, সেটা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। আদিবাসী জনগণের একটা বড় অংশ, বিশেষত যুবসমাজ, বামফ্রন্টের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়ের অভাব নিশ্চই এর পিছনে বড় কারণ।

এটাও বিচার্য যে ত্রিপুরায় বামপন্থীদের এবারের হার কিন্তু ২০১১-য় পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের হারের মতন বিধ্বংসী হার নয়। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীসহ বাম মন্ত্রীসভার অধিকাংশ সদস্যই পরাজিত হয়েছিলেন। ত্রিপুরায় মানিক সরকার, বাদল চৌধুরী, ভানুলাল সাহা, শহিদ চৌধুরীর মতন বাম মন্ত্রীসভার সদস্যরা জিততে চলেছেন বা জিতে গেছেন। ত্রিপুরার বামপন্থীরা যদি পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম নেতৃত্বের মতন আচরণ না করে যথার্থ আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের দোষ-ত্রুটিগুলিকে কাটিয়ে উঠতে পারেন, তাহলে তাঁদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো অবশ্যই সম্ভব হবে।

Advertisement
head_ads

বিচ্ছিন্নতাবাদী আইপিএফটি-র সাথে জোট করে বিজেপি আদিবাসী জনগণের থেকে সমর্থন আদায় করতে পেরেছে। আর ত্রিপুরার গোটা কংগ্রেস দলটাই কয়েকদিন তৃনমূলে কাটিয়ে তারপর বিজেপিতে ঢুকে গেছে। এর ফলে বাংলাভাষীদের একাংশও বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। ত্রিপুরার রাজ্যপালের সাংবিধানিক আসনে বসে একের পর এক উস্কানিমূলক বিবৃতি এবং টুইট, কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ, অসম-সহ অন্যান্য রাজ্যের আরএসএস-বিজেপি-র সাংগঠনিক সাহায্য, এই সমস্ত কিছুই আছে বিজেপির জয়ের নেপথ্যে। ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ যে কি হবে?

মেঘালয় এবং নাগাল্যান্ডের নির্বাচনের ফলাফলও দেখাচ্ছে কিভাবে বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সারা দেশে তার জাল বিস্তার করছে, নানাধরনের সুবিধাবাদী জোট গঠন করে আর ভোটে কোটি কোটি টাকা খরচ করে। কেন্দ্রের মোদী সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি এবং সংবিধান-বিরোধী কাজকর্মকে এই ভোটের ফল দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায় না। বরং বিরোধীশক্তিরা জোরালো আন্দোলন না গড়ে, শুধু দায়সারা ভাবে সংসদীয় কুটকাচালির মাধ্যমে বিজেপিকে মোকাবিলা করার যে চেষ্টা করে চলেছে, তার অকার্যকারীতাকেই এই নির্বাচনী ফলাফল চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। রাস্তায় প্রতিরোধ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, ঐক্য গড়তে হবে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে- এ ছাড়া আর রাস্তা নেই।
(লেখক একজন অর্থনীতিবিদ)

head_ads