টিডিএন বাংলা ডেস্ক : দেশের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সালমান হুসাইন নদাভী তুরস্কের আসন্ন পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সে দেশের জনগণকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগান এবং তার দল একেপির প্রতি সমর্থনের জন্য আহবান জানিয়েছেন।
শায়েখ নদাবী তার ফেসবুক একাউন্টে একটি ভিডিওবার্তায় বলেন, মুসলমানদের বড় একটি অংশের (প্রায় ৩০০ মিলিয়ন) বসবাস আমাদের এই হিন্দুস্তানে। এছাড়াও সারা বিশ্বের সব মুসলমান-আমরা একতাবদ্ধ হয়ে থাকতে চাই। এজন্য তুর্কিদের প্রতি আমার আহবান: সমস্ত হিংসা বিদ্বেষ ভুলে আগামী গুরুত্বপূর্ণ দুটি নির্বাচনে আপনারা রজব তাইয়েব এরদোগানের প্রতি সমর্থন দিন।
তিনি আরো বলেন, তুরস্কে বর্তমান অর্থনীতির হালচিত্রে লিরার (তুরকি মুদ্রা) অবমূল্যায়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে, এর কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, শত্রুদের পতন, বন্ধু শত্রু হয়ে ওঠা এবং শত্রু চিরশত্রু হয়ে যাওয়া। এই ধরণের বিপর্যয়ে সব মুসলমানের উচিৎ এক কাতারে শামিল হয়ে এগিয়ে চলা।
শায়েখ নাদাবী গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিদ্বেষী শত্রুদের বিরুদ্ধে সব মুসলমানের অবস্থান এক করতে হবে। শত্রুরা চায় তুরস্কের পতন, আরো একবার তুর্কিদের অধঃপতন। শতশত বছর পুরোনো তুর্কিদের জাতীয় ঐতিহ্য, গৌরব এবং সুখাতীত থেকে এই জাতী পৃথক হয়ে পড়ুক-শত্রুরা এটাই কামনা করে।
এজন্য বিশ্বের সব মুসলমানদের সাথে তুর্কিদেরও একাত্ম হয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করতে হবে, আসন্ন নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করে শত্রুদের বিপক্ষে তার হাতকে আরো সুসংহত ও শক্তিশালী করার কোন বিকল্প পথ খোলা নেই।
তুর্কি জনগণকে সম্বোধন করে শায়েখ সালমান বলেন, সত্যটা তাদের জানতে হবে, তারা যদি যথাসময়ে সত্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তাদেরকে পস্তাতে হবে। তুর্কিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, মুসলিম-বিশ্বশক্তি, আলেমসমাজ, শিক্ষাবিদসহ ইসলামি জাহানের সমস্ত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এরদোগানের সাথে রয়েছে।
মাওলানা সালমান হুসাইন নদভী
শায়েখ সালমান এরদোগানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি শুধু তুরস্ক ও তুর্কিদের সেনাপতি নন, বিশ্বের সমস্ত উলামা-মাশায়েখ ও ইসলামি নেতৃবৃন্দের চোখে তিনি অঘোষিতভাবে সমগ্র মুসলিমজাতির সেনাপতির স্থান দখল করে নিয়েছেন।
বিশ্বের সকল মুসলিমজাতির কথা উল্লেখ করে এই প্রথিতযশা শায়েখ আরও বলেন: সব ভেদাভেদ ভুলে সমগ্র মুসলিমবিশ্ব আজ একাত্ম হয়ে এই আশা করছে যে, আধুনিকতা ও উন্নয়নশীলতা বজায় রাখতে তুর্কিরা আবার এরদোগানকেই সমর্থন দেবে। কেননা, মুসলিম জাতি ও তুর্কি জনগণের যে সংকট আজ সামনে এসেছে, এসব থেকে জাতিকে উদ্ধার করা এবং তুরস্কের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনা করা এরদোগানের পক্ষেই সম্ভব।
উল্লেখ্য, আগামী ২৪ জুন তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগান লড়বেন তার প্রতিষ্ঠিত একে পার্টি (জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট পার্টি বা একেপি)র হয়ে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, মুহাররম ইনজাহ-প্রজাতন্ত্র পার্টি, দুগূ বারিঞ্জীক-স্বদেশ পার্টি।
এছাড়াও বিভিন্ন দলথেকে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন,মিরাল আক্বশার, সালাহুদ্দীন দামীরত্বশ,মোল্লাউগ্লু প্রমুখ।