শ্রীনগরের কেন্দ্রীয় কারাগারে যুবকদের বানানো হচ্ছে কট্টরপন্থী : রিপোর্ট

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের উচ্চমানের সুরক্ষা বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ৩০০টি মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে যে, এখানকার কয়েদীদের জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার খুবই সহজলভ্য হয়ে গিয়েছে। একটি আধিকারিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে জেলের ভিতরে ছোটখাটো মামলার অপরাধীদের কট্টরপন্থী বানানো হচ্ছে। খবর দ্য ওয়্যার- এর।


রিপোর্ট অনুযায়ী, বিষয়টি অতিব গুরুত্বপূর্ণ এবং ভয়াবহ। এই রিপোর্ট বহুবার জম্মু-কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলায়ে পাঠানো হলেও কোনও রকম তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। বিগত ৬ ফেব্রুয়ারি লস্কর-এ-তৈবার এক সন্ত্রাসী মোহাম্মদ নাবেদ ঝাট দু’ জন পুলিশকর্মচারীকে হত্যা করে এসএসএইচএস হাসপাতালের পুলিশি প্রহরার মাঝেই পালিয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনার পর এক আভ্যন্তরীণ তদন্তে জেলে মোবাইল থাকার বিষয়টি জানা গিয়েছে।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলায়কে জমা দেওয়া গোপন রিপোর্ট অনুযায়ী, সাধারণ অপরাধের জন্য জেলে বন্দি যুবকদের কট্টরপন্থী বানানোর কারখানায় পরিণত হওয়া জেল পরিসর থেকে ৩০০ মোবাইল পরিচালনার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তৎকালীন প্রধান অধিকর্তা (কারাবাস) এস কে মিশ্রা এই রিপোর্টের ব্যাপারে বলেন, জেলে ভারতীয় ইলেকট্রনিকস নিগম লিমিটেড (ইসিআইএল) যে জ্যামার লাগিয়েছিল তা কাজ করছেনা। তিনি বলেন, ‘ইসিআইএল যে টেকনোলজি ব্যবহার করছিল তা অকেজো হয়ে গেছে। জ্যামার এখন সিগন্যাল অথবা মোবাইল ফোন বন্ধ করতে পারছেনা।’

ঝাট পলাতক হওয়ার ঘটনার পর এস কে মিশ্রাকে পদ থেকে সরিয়ে সহকারী প্রধান অধিকর্তাকে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ আবাস নিগমের অধ্যক্ষ করে দেওয়া হয়েছিল। মিশ্রা অভিযোগ করেন, এই বিষয়ে বহুবার জম্মু-কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলায়কে জানানো হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জেলের ভিতরে জিহাদের ব্যাখা দেওয়া হয়। ধর্মের সারকথা বাদ দিয়ে কট্টরপন্থী চিন্তাভাবনা যুবকদের অন্তরে গেঁথে দেওয়া হয়। এধরণের ধর্মীয় ভুল ব্যাখা কয়েদীদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বিশেষ করে যুবকদের মনে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কয়েদীদের আলাদা আলাদা রাখা হয় না। সন্ত্রাসবাদ বা দাঙ্গার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কয়েদীদের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করা হয়। কয়েদীদের বড় নেতাদের (সন্ত্রাসী সংগঠনের দায়ীত্বশীলদের) আলাদা ব্যারাক নির্ধারিত করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরাতন কয়েদীরা নিজেরাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এস কে মিশ্রা বলেন, শ্রীনগর সেন্ট্রাল জেলে হাইপ্রোফাইল কয়েদীদের আলাদা রাখা অসম্ভব। কেননা জেলের পরিকাঠামো অত্যন্ত পুরানো এবং খারাপ।