হরিহরপাড়ায় উদ্ধার আয়রন ও ফলিক এসিড ঔষধ, চাঞ্চল্য এলাকায়

0

কিবরিয়া আনসারী, টিডিএন বাংলা, ডোমকল : হরিহরপাড়া অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসের পেছন থেকে উদ্ধার হল প্রায় পাঁচ বস্তা আয়রন, ফলিক এসিড ঔষধ। উদ্ধার হওয়া ঔষধগুলি বেশিরভাগই ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল আকারের বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে হরিহরপাড়া থানার এসএই অফিসের পেছনে। এসআই অফিসের এক অস্থায়ী কর্মী অফিসের পেছনে বস্তায় ভর্তি ঔষধগুলি পুতে ফেলার চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে ঘটনাটি।

অভিযুক্ত কর্মী জানান, এসআই অফিসার রমজান আলি ও অফিসের কর্মী রনবীর সরকারের নির্দেশে ঔষধগুলি নষ্ট করা হচ্ছিল। প্রাথমিক অনুমান ঔষধগুলি বিভিন্ন স্কুলে রক্তাল্পতা ঠেকাতে ছাত্রছাত্রীদের দেওয়ার জন্য বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু স্কুলে না পাঠিয়ে অফিসেই রেখে দেওয়া হয়েছিল ঔষধগুলি।

জানা গিয়েছে, জুন মাসেই ঔষধগুলির মেয়াদ উত্তীর্ন হয়। বিডিও অফিস চত্বরেই স্কুল দপ্তরে অফিস হওয়ায় মুহুর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান ঔষধের মুল্য কয়েক লক্ষ টাকা। এত পরিমানে ঔষধ একসাথে মেয়াদ উত্তীর্ণ হল অথচ দপ্তরের কর্মী আধিকারিকদের নজরে আসলনা তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

এর জন্য অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও অফিসের অন্যান্য কর্মীদের দায়ী করছেন সকলেই। কেনো ঔষধ গুলি এতদিন ছাত্রছাত্রীদের না দিয়ে অফিসেই ফেলে রাখা হয়েছিল তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কেনোই বা বিপুল পরিমানে ঔষধ রাতের অন্ধকারে পুড়িয়ে পুতে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল তানিয়ে ধন্দে সকলেই।

ঘটনা জানাজানি হতেই রাতেই ঘটনাস্থলে যায় হরিহরপাড়ার বিডিও পূর্নেন্দু সান্যাল সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক রমজান আলিও ঘটনাস্থলে যান। যদিও তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি। এত পরিমানে ঔষধ কিভাবে একসাথে মেয়াদ উত্তীর্ণ হল তার কারন জানতে চেয়ে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক রমজান আলিকে তলব করেছেন বিডিও।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেখানে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করছেন। সেখানে স্কুল শিক্ষা দপ্তরেই লাখ লাখ টাকার ঔষধ নষ্টের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত এসআই রমজান আলি সহ অফিসের অন্যান্য কর্মীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা।