টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ফের শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটল বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশে৷ সেখানে কখনও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। আবার কখনও শয্যার অভাবে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরতে হয় মরনাপন্ন রোগীকে৷ এটাই যােগীর রাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার ছবি। ওই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল যে কতটা খারাপ তার প্রমাণ ফের মিলল৷

রাজ্যের বাহরাইচ জেলা হাসাপাতালে গত ৪৫ দিনে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭১ জন শিশুর। এক সাক্ষাতকারে এমনই জানিয়েছেন হাসপাতালের সুপার ডি কে সিং। তিনি জানান, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ওই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে৷ তার দাবি, এরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন অসুখে ভুগছিল৷ একদম শেষ মুহূর্তে তাদের আনা হয় হাসপাতালে৷ সেই সময় হাসপাতালের কিছুই করার ছিল না। জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসেছিল এইসব শিশুরা৷ তবে জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামাে যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, সেকথা মেনে নিয়েছেন সুপার ডি কে সিং৷

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ৪৫০-৫০০ মানুষ আসেন এখানে৷ কিন্তু হাসপাতালে রেড সংখ্যা মাত্র ২০০। তাই সবাইকে ভর্তি করা সম্ভব হয় না। তাই রোগি ফেরাতে বাধ্য হয় হাসপাতাল। তবুও সীমিত সামর্থের মধ্যে জীবন বাচানোর আপ্রাণ করে থাকেন এখানকার কর্মীরা৷ তবে হাসপাতাল সূপারের এই সাফাই মানতে নার৷জ রােগির পরিবার। তারা এই ঘটনায় তদন্তের দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরই গোরখপুরের বিআরডি হাসপাতালে শিশুমৃতার ঘটনা খবরের শিরোনামে এসেছিল৷ সেইসময় ৪ দিনে মৃত্যু হয়েছিল ৬৯টি শিশুর। ২০১৭-র ৭ অক্টোবর একদিনে মারা যায় ১২টি শিশু। এর পরের দিন, অর্থাৎ ৮ অক্টোবর ৮টি, ৯ অক্টোবর ১৮টি ও ১o অক্টোবর ১৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে গোরখপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বেশিরভাগ শিশুরইমৃত্যু হয় অ্যাসফিসিয়া, নিউমােনিয়া এবং সেপ্টিসেমিয়ার মতো রোগে। এরপর গত আগস্ট মাসে ওই হাসপাতালেই অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাবে এক সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যু হয় ৬৩টি শিশুর৷ সেই ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল৷ তাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার বন্টন সংস্থার মালিক ও বিআরডি কলেজের তৎকালীন প্রিন্সিপালও ছিলেন৷

কিন্তু এরপরেও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল যে ফেরেনি, বাহরাইচ জেলা হাসপাতালে ধারাবাহিক শিশু মৃত্যুর ঘটনা তারই প্রমাণ। গতবছর গোরখপুরের বাবা রাঘব দাস মেডিক্যাল কলেজে অক্সিজেনের অভাবে ৬০ জন শিশু মারা যাবার পর, এই মর্মাস্তিক ঘটনা উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।