ভারতে এসে আশাহত হিন্দুরা, ফিরে যাচ্ছে সেই মুসলিম বহুল পাকিস্তানেই

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পাকিস্তানে অত্যাচার-বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন ভেবে যেসব হিন্দু ভারতে চলে এসেছিলেন, তাদের একটা অংশ আবারো ফিরে যেতে শুরু করেছেন পাকিস্তানেই। এদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আশায় থেকেও ভারতের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন না তারা। তাই তারা আবারো ফিরতে শুরু করেছেন নিজের দেশে।

নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১৬ সালেই ঘোষণা করেছিল যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো হিন্দু যদি ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হন, তাহলে তাদের স্বাগত জানাবে ভারত, দেবে নাগরিকত্ব।
কিন্তু পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দুদের একাংশের এখন মনে হচ্ছে যে ওই ঘোষণাই সার হয়েছে, নাগরিকত্ব দেয়া হচ্ছে না নানা বাহানায়।

রাজস্থানের যোধপুর শহরের বাসিন্দা এক শ্রমিক কিষান পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সাঙ্ঘার জেলা থেকে ভারতে চলে এসেছেন ২০০০ সালে। তিনি বলছিলেন, আমার বাবা-মা ভারত থেকেই পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। তাই ভারতকেই নিজের দেশ বলে মনে করি।

‘কিন্তু পাকিস্তানে আমাদের অবস্থা এমনই ছিল যে নিজের নাম পর্যন্ত বলতে সাহস পেতাম না, হিন্দু নাম শুনলেই সমস্যা হত।’
যোধপুর শহরেরই আরেক বাসিন্দা গোর্ধন ভীল পাকিস্তানের টান্ডো সুমরো থেকে ভারতে চলে এসেছেন ২০০১ সালে, কিন্তু এখনো নাগরিকত্ব পান নি তিনি।

ভীল বা কিষানের মতো বহু মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও নাগরিকত্ব না পেয়ে তাদের কেউ কেউ আবার ফিরে যেতে শুরু করেছেন পাকিস্তানে।

সম্প্রতি রাজস্থান হাইকোর্টে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় হিন্দুদের পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন সেখানকার বিদেশী নাগরিক পুঞ্জীকরণ অফিসার শ্বেতা ধনকার। তিনি বলেন, ২০১৫ থেকে ১৭ – এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ফিরে গেছেন ৯৬৮ হিন্দু।

পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসা হিন্দুদের অধিকারের দাবি নিয়ে সীমান্ত লোক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই সরব।
সংগঠনটির সভাপতি হিন্দু সিং সোধা বলেন, ‘সেদেশে ধর্মের কারণে অত্যাচারিত হচ্ছিলেন, বৈষম্যের শিকার হচ্ছিলেন বলেই তো এই মানুষরা ভারতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু এখানে যদি তারা স্বাগতই না হবেন, তাহলে তো তারা ফিরে যাবেনই।

সূত্র : বিবিসি, এনডিটিভি, টাইমস অফ ইন্ডিয়া