কিষেণজি হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে মাওবাদীরা!

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : সশস্ত্র কমিউনিস্টদের শীর্ষ নেতা মালোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজি হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে মাওবাদীরা। এরইমধ্যে তাদের তিনটি গোষ্ঠী একত্রিত হয়েছে। মাঝে মধ্যে তারা অযোধ্যা পাহাড় ও বেলপাহাড়িতে যাতায়াত করছে বলে জানিয়েছেন সিআরপিএফের ডিআইজি ডিএস লাখ্যা।

গত বুধবার ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গালুডির কাছে মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যান পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা সিআরপিএফ জওয়ান নির্মল ঘোষ।

Advertisement
head_ads

তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে মুর্শিদাবাদ সফরে যান ডিআইজি লাখ্যা।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থেকে বহরমপুরে ফিরে তিনি জানান, কিষেণজির মৃত্যুর পর মানস ও বিকাশ নামে দুই নেতা যৌথভাবে পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের দায়িত্ব পালন করছেন।

নেটওয়ার্ক তৈরি করতে মাঝে মধ্যেই তারা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছেন। বেলপাহাড়ি, অযোধ্যা পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায়ও যাতায়াত করছেন।

তাদের দলে রয়েছে ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য। তারা কোথাও বেশিদিন অপেক্ষা করছেন না।

ডিআইজি লাখ্যা জানান, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তে থাকা পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ায় সিআরপিএফের পাঁচটি ব্যাটালিয়ান রয়েছে। তারাই মাওবাদীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখার কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, আইনের ছাত্র কিষেণজি সত্তরের দশকে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নকশালের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ওই দশকেই প্রথম তিনি গ্রেফতার হন।

পরে আশির দশকের শুরুতে পিপলস ওয়ার গ্রুপে যোগ দেন কিষেণজি। তাকে তেলেঙ্গানা ও দণ্ডকারণ্যের দায়িত্ব দেয়া হয়। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি প্রথম জঙ্গলমহলে আসেন।

এরপর বেলপাহাড়ির পুকুরিয়া গ্রামে প্রথম শুরু করেন সংগঠন তৈরির কাজ। ওই সময় গ্রামবাসীদের কাছে তার পরিচয় ছিল বিমলদা।

সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরো এবং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের সদস্য কিষেণজির নেতৃত্বেই মূলত জঙ্গলমহলে একের পর এক স্কোয়াড তৈরি করে মাওবাদীরা।

২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য়ের ওপর মাওবাদীদের হামলার পর কিষেণজি আলোচনায় ওঠে আসেন।

এরপর তাকে ধরতে নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। অন্তত চারবার তিনি নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হন।

head_ads