‘মুসলিমদের এদেশে থাকাই উচিত নয়’: ফের বিনয় কাটিয়ারের বিতর্কিত মন্তব্যে ক্ষোভ

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বিজেপির এমপির নামের শুরুতে বিনয় কথাটি থাকলেও বিনয় কাটিয়ার কথা বার্তায় বিনয়ের চিহ্নমাত্র নেই তা আবারো প্রকাশ্যে এল। বিজেপি’র সিনিয়র এই নেতা বিনয় কাটিয়ার বলেছেন, “ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়, তারা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যাক।” বুধবার সংবাদসংস্থা এএনআইতে তার এ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে। বিনয় কাটিয়ার তার বিতর্কিত মন্তব্যে বলেছেন, ‘মুসলিমদের এদেশে থাকাই উচিত নয়। তারা জনসংখ্যার ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করেছে, সেজন্য এদেশে থাকার তাদের কী প্রয়োজন ছিল? তাদের এক আলাদা ভূখণ্ড দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে যান। এখানে তাদের কী কাজ?’


মঙ্গলবার ‘মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তাঁর এক ভাষণে বলেন, ভারতীয় মুসলিমদের যারা ‘পাকিস্তানি’ বলবে তাদের জন্য সরকার তিন বছরের সাজার ব্যবস্থা করুক। ওয়াইসির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আজ বিজেপি’র ঐ এমপি উক্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ওয়াইসির মতে, ভারতীয় মুসলিমরা যদি পাকিস্তানের দাবিকে সমর্থন করত, তাহলে  তারা দেশভাগের পর সেখানেই চলে যেত। কিন্তু তা না করে দ্বিজাতি তত্ত্বের ওপর দেশভাগ মেনে নেননি বলেই তারা ভারতে থেকে গেছেন। সেই হিসেবে জিন্নাহ’র তত্ত্বকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাহলে এখন যেকোনো কারণে তাদের ‘পাকিস্তানি’ বলে ব্যঙ্গ করা হবে কেন?

এর আগেও বিনয় কাটিয়ার বলেছেন, যারা ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘তিরঙ্গা’কে সম্মান করে না, যারা পাকিস্তানি পতাকা তোলে তাদের শাস্তি দেয়া উচিত।


বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ারের প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. গৌতম পাল রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আমি মনে করি এটা সংবিধান বিরোধী কথা। ভারত সেক্যুলার দেশ। এখানে স্বাধীনতার আগে থেকে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলেই বাস করছেন। ভারত সৃষ্টির আদিকাল থেকেই সব ধর্মের মানুষ এখান বাস করছেন এবং স্বাধীনতার পরেও ভারতে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। সংবিধানে সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি এ ধরণের কথা বার্তা বলেন, তাহলে তার উপযুক্ত শাস্তি পাওয়া উচিত। আমি এ ধরণের উক্তির তীব্র নিন্দা করছি।’

বিনয় কাটিয়ারের বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বন্দি মুক্তি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস বলেন, ‘ভারতের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে  নাগরিকত্বের কোনো প্রশ্ন নেই। আসলে ওরা যেটা বলছেন, তাহল- ওরা ভারতের সংবিধানকে পাল্টে দিতে চাচ্ছেন। ওরা সংবিধান মানেন না সেটাই ওরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন। যারা সংবিধান মানেন না, তাদের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে সরকারকে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যদিও মোদি সরকার ওই ব্যবস্থা নেবে না।’

ভারত বিভক্ত হওয়া প্রসঙ্গে ছোটন দাস বলেন, ‘কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় এজন্য দায়ী নয়। সেই আমলে বাংলা প্রদেশের যেসব প্রস্তাব পাস হয়েছে তাতে দেখা যাবে মুসলিম বিধায়করা ব্যাপকভাবে ভারত ভাগের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। আসলে উন্মাদনা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘হেট ক্যাম্পেন’ করার অপরাধে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’ এক বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এভাবে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও মিথ্যাচার ছড়ানোর জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।