সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ রাজনৈতিক দলগুলির, দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড়

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : সম্প্রতি সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত মন্তব্য করেছিলেন, ‘ইসলামাবাদ পরিকল্পিতভাবে ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী পাঠাচ্ছে।’ সেনাপ্রধানের এহেন মন্তব্যে অসমের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ গোটা দেশে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বেশকিছু রাজনৈতিক দল। বিপিন রাওয়াতের দাবি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে অস্থির রাখতে চীনের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ওই এলাকার দিকে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তান।


রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে- এমন ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এআইইউডিএফ বলে একটা দল আছে। খেয়াল করে দেখুন, বিজেপি বছরের পর বছর যে গতিতে বেড়েছে, ওরা আসামে তারচেয়েও দ্রুত বেড়েছে।’ ২১ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে দেয়া সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে কমিউনিস্ট পার্টি মার্ক্সবাদী (সিপিএম), অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম (এআইইউডিএফ) এবং মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম)। দলগুলো বলছে সেনাপ্রধান তার সাংবিধানিক পরিসরের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপও চেয়েছে তারা।

সিপিএম-এর পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত বলেন, জেনারেল রাওয়াতের বক্তব্য যথার্থ নয়। দৃশ্যত সেনাবাহিনীকে ‘রাজনীতিকীকরণ’-এর লক্ষ্যবস্তুুতে পরিণত করা হয়েছে। সংবিধানে সেনাবাহিনী ও রাজনীতির পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে। তিনি সংবিধানের সীমারেখা অতিক্রম করেছেন। সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে ভারতের প্রেসিডেন্টের উচিত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া এবং এর পুনরাবৃত্তি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। সেনাপ্রধানের বক্তব্য নিয়ে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম (এআইইউডিএফ) নেতা মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল।

তিনি বলেন, সংবিধান তাঁকে (বিপিন রাওয়াত) মহান সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দলের উত্থান-পতন নিরীক্ষণের দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়নি। তিনি সংবিধানে নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করেছেন। মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল আরো বলেন, এআইইউডিএফ মুসলিমদের রাজনৈতিক দল নয়। প্রতিটি নির্বাচনে আমরা ২৫ থেকে ৩০টি আসনে হিন্দু ভাইদের প্রার্থী করে থাকি। নির্বাচন কমিশনে তালিকাভুক্ত প্রকৃত ভোটারদের রায়ে আমাদের বিজয় আসে।