নীরব জি, ভারতে আসুন ভয় না পেয়ে! আপনার আত্মীয়তা অভাবনীয়, কেউ আপনার গায়ে হাত দিলে হাত কেঁপে যাবে

0

হে ভারত ত্যাগী নীরব মোদি,

পাঠানো চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আজ তদন্ত সংস্থার কর্মীদের মাঝে সিঙ্গাড়া বিতরণ করা হবে, কেননা যে নীরব মোদি পর্যন্ত তারা পৌঁছাতে পারেনি সেই নীরব মোদির চিঠি তাঁদের কাছে পৌছে গেছে। আপনি সত্যিই এই তদন্ত সংস্থাগুলির ব্রান্ড উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন। ক্ষমতাসীনদের বন্ধুদের না ধরার এদের রেকর্ড এমনি এমনি তৈরী হয়নি। আপনার চিঠি দেখে প্রশান্তি অনুভব করেছি, কেননা এতকিছুর পরও আপনি ভয় পাননি।

 

বিভিন্ন কারনে এই চিঠি। আমি আপনার এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ করছি এবং ভালবাসা পাঠাচ্ছি। আপনি দশ কুড়ি হাজার কোটির জন্য ভারত ত্যাগ করেছেন, তা কেউ পারবেনা। আপনিও অতীতে কিছু বিক্রি করতেন না তো? যদি তাই হয়, তাহলে বলুন। আমরা গর্ব করব যে, নীরব হীরের আগে হালুয়া বিক্রি করত। আমরা গর্ব করব।

আপনার কোম্পানির বদনাম হয়েছে। কথায় কথায় অনুভূতি এবং বিশ্বাস ভঙ্গ হওয়ার এই দেশে আপনার বদনামে রয়েছে নতুনত্ব। আপনার সঙ্গে যা হচ্ছে, তা ঠিক হচ্ছে না। পাঞ্জাব ন্যশনাল ব্যাঙ্কের ব্রান্ড তো মাটির পাহাড়ের মতো। চোখ বন্ধ করে আপনাকে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যেতে দেওয়া ব্যাঙ্কের উচিত ছিল। যেমনটা আপনি ব্যাঙ্ককে বলে গিয়েছিলেন, আমি ভারত ত্যাগের পরিকল্পনা করছি। আপনারা চিন্তা করবেন না, ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া হবে। ব্যাঙ্ক মেনে নিলে আজ আপনার ব্রান্ড আরও উচ্চতায় পৌঁছে যেত। যদিও আপনার চিঠিতে আপনার ব্রান্ড উঁচুই হয়েছে। নীরব মোদি আপনি নরেন্দ্র মোদি না হলেও, নরেন্দ্র মোদির তদন্তকারী সংস্থাকে মোটেও ভয় পান না। তাঁদের চিঠি লেখে। জানা নেই, এই ঘটনায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ব্রান্ডে কি লেগেছে – আঘাত না প্রত্যাঘাত।

আপনি ক্ষমতাসীনদের বন্ধু না হলে যে কোনও দারোগা এক মিনিটে আপনাকে সোজা করে দিতেন। আপনার কপাল ভালো যে, লেখার মতো আজও আপনার কাছে বহু নাম রয়েছে। সেই নামগুলি এখনি লিখবেন না। আমরা খবরে পড়ে আপনাকে নিয়ে গর্ববোধ করি যে, আপনি ব্যাঙ্ক থেকে টাকা নেন আর অন্য কেউ আপনার টাকা নিয়ে নিজের ঘর সামলায়। শুধুশুধু অফ রেকর্ড কথাবার্তা অন রেকর্ড নিয়ে আসা। আপনি চিন্তা করবেন না, আমার পুরো ভরসা আছে আপনার কিছু হবেনা।

নীরব মোদিজী, ভারতে আসতে ভয় পাবেন না। আপনার আত্মীয়তা অভাবনীয়, কেউ আপনার গায়ে হাত দিলে হাত কেঁপে যাবে। আমাদের মেহুল ভাইতো এখানেই রয়েছেন, তারও কিছু হয়নি। ভাববেন না যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, আইন মন্ত্রী ও মানব উন্নয়ন মন্ত্রী ছাড়া আর কোনও মন্ত্রী নেই। এখনও প্রচুর মন্ত্রী বসে আছেন আপনার জন্য।

নীরব মোদিজী, আপনি খুবই কিউট। আপনি নিজে নিজেই হীরে। হিরের টুকরো আপনি। লোকেরা ভুল বলে যে, কয়লা থেকে হীরে তৈরী হয়। আসলেই কয়লা থেকে আমরা তৈরী হই যাদের মুর্খ বলা হয়। আপনার প্রতিচ্ছবি নষ্ট হওয়ার জন্য আমি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনি ব্যাঙ্ক থেকে হীরে বের করতে থাকুন। চিঠি লিখতে থাকুন।

ইতি,

রবীশ কুমার

 

নীরব মোদিকে লেখা রবীশ কুমারের এই খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে এনডিটিভি। লেখাটি মূল হিন্দি থেকে অনুবাদ করে টিডিএন বাংলার পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল। অনুবাদ করেছেন, সামাউল্লাহ মল্লিক