সারা জীবন কংগ্রেসের নুন খেয়ে শেষ বয়সে বিজেপির গুণগান, প্রণবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বললেন সোনিয়া

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : প্রণব মুখার্জি। কংগ্রেসের নীতিনির্ধারক ও দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে দেশের ৫৪৩ লোকসভা কেন্দ্রে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সেরে ফেলতে পারতেন তিনি।

এ রকমই রাজনৈতিক ক্ষমতা ছিল তার। অথচ বুধবার কানপুরে ২৪ ঘণ্টা কাটানোর পরও কোনো নেতা কর্মী কংগ্রেস রাজনীতির এ প্রাণপুরুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। একমাত্র কারণ হলো বিজেপি ঘনিষ্টতা। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

সারা জীবন কংগ্রেসের নুন খেয়েছেন। আর আজ শেষ বয়সে সেই প্রণবের মুখে বিজেপির গুণগান। বৃহস্পতিবার বিজেপির মিত্রগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত কেবি হেগদেওয়ারকে ‘ভারতের শ্রেষ্ঠ সন্তান’ বলে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন প্রণব মুখার্জি।

আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকালে আরএসএস সদর দফতরে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এক উষ্ণ অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন। যদিও তার আরএসএস দফতরে যাওয়াকে কখনোই মেনে নিতে পারেনি কংগ্রেস। কংগ্রেস আর তার পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তিনি শেষ অবধি এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেন।

প্রণবের এমন ব্যবহারে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সম্মান বজায় রেখে এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, প্রণব দার কাছে আমি এমনটা প্রত্যাশা করিনি। আরএসএস সভায় যোগ দেয়ার নিন্দা জানিয়ে সোনিয়া দলের নেতাকর্মীদের প্রণবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান।

বুধবার নাগপুর বিমানবন্দরে প্রণবকে স্বাগত জানান আরএসএস নেতা মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা কেবি হেগদেওয়ার মোমোরিয়াল কমপ্লেক্স এলাকা পরিদর্শন করেন প্রণব।

সেখানকার পরিদর্শক বুকে তিনি লিখে আসেন- ‘প্রতিষ্ঠাতা (হেগদেওয়ার) ভারত মাতার এক শ্রেষ্ঠ সন্তান। ভারতের শ্রেষ্ঠ এ সন্তানকে শ্রদ্ধা জানাতে আমি এখানে এসেছি।’ হেগদেওয়ারের মোমোরিয়াল পরিদর্শনের আগে তার বাসভবনে যান প্রণব।

বেশ কিছুদিন ধরে প্রণব মুখার্জি আরএসএসের আমন্ত্রণ স্বীকার করার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে বিরাট আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। আরএসএসের প্রশিক্ষণরত সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবকের উদ্দেশে বার্ষিক এ সভার আয়োজন করা হয়।