টিডিএন বাংলা ডেস্ক : নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, ২০১৬ নিয়ে অসমে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের জোট শরিক ‘অগপ’ আগেই ওই বিলের তীব্র বিরোধিতা করায় এবার ঘরে-বাইরে বিপাকে পড়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই নড়বড়ে হয়েছে যে সেখানে বিরোধীদের মধ্যে বিকল্প সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তোড়জোড়  শুরু হয়েছে।
উজান অসমের কমপক্ষে দশ বিজেপি বিধায়ক প্রস্তাবিত ওই বিলের  বিরোধিতা করে বিলটি গ্রহণের প্রশ্নই নেই বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকী বিলটি গৃহীত হলে বিধায়ক বিনোদ হাজারিকা দল ছাড়বেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রস্তাবিত বিলটি নিয়ে বিরোধীদের তুমুল বিরোধিতার মুখে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল আগেই অসমবাসীদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বিলটি সমর্থন করে উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্বের পক্ষে জোরালো সাফাই দিয়েছেন।
কার্যত বিজেপি’র এই দুই শীর্ষ নেতা পরস্পরের মধ্যে বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন। গত সোমবার অসমের সুশীল সমাজের মানুষজন মুখ্যমন্ত্রীকে সাফ  জানিয়েছেন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল গৃহীত হলে অসমের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সব ধ্বংস হয়ে যাবে!
এদিকে, এসব ডামাডোলের মধ্যে বিজেপিতে বিদ্রোহের সুর ধ্বনিত হওয়ায় অসমে কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুল খালেক বিকল্প সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার তিনি বলেন, দলের প্রতি অসন্তুষ্ট বিধায়করা বেরিয়ে এলে কংগ্রেস স্বাগত জানাবে।
অসমে সরকার গড়ার জন্য ৬৪ বিধায়কের দরকার। এক্ষেত্রে, কংগ্রেসের ২৬, অগপ’র ১৪, এআইইউডিএফের ১৩, বিপিএফের ১২ এবং এক নির্দলীয় বিধায়কসহ অবিজেপি দলসমূহের কাছে ৬৬ বিধায়ক রয়েছে।
রাজনৈতিক এরকম সমীকরণের মধ্যে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি রিপুন বরা অসমের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও অগপ নেতা প্রফুল্ল কুমার মোহন্তকে বিরোধী সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এক্ষেত্রে কর্ণাটক মডেলে কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে এবং সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতেও তৈরি বলেও দলটির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।