বামফ্রন্টকে হটাতে ত্রিপুরায় যে সব ‘রাজনৈতিক কৌশল’ নিয়েছিল বিজেপি

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ত্রিপুরাকে টার্গেট করে পরিচালিত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশলের মধ্য দিয়ে সেখানকার বিধানসভায় জয় নিশ্চিত করেছে বিজেপি। আদিবাসী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট বাঁধা ছিল এই কৌশলগুলোর অন্যতম। ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও রাজনৈতিক সহিংসতায় মানিকের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর। রাজ্যকে দেখানো হয়েছিল উন্নয়নের স্বপ্ন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যম তাদের বিশ্লেষণে দেখিয়েছে, বিগত আড়াই বছরে এসব কৌশল বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা দলটি।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সপ্তম পে-কমিশন চালু করলেও ত্রিপুরার সরকারি কর্মীরা এখনও আটকে রয়েছেন চুতর্থ পে-কমিশনে। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ইস্যুটিকে লুফে নিতে ভুল করেনি বিজেপি। ভোটারদের কাছে তারা এটিকে মানিক সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরে। বাঙালিদের সরকারি চাকরির সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সপ্তম পে-কমিশন বাস্তবায়নেরও প্রতিশ্রুতি দেয় নরেন্দ্র মোদির দল।
৫৯ আসনে অনুষ্ঠিত ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে ৪৩ আসন নিশ্চিত করেছে বিজেপি জোট। ২০১৩ সালের নির্বাচনে ত্রিপুরায় মাত্র দেড় শতাংশ ভোট পায় বিজেপি। পাঁচ বছরের মাথায় এবার তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ, ৪১ শতাংশেরও বেশি ভোট বেড়েছে দলটির। সঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাও পেয়েছে দলটি। দক্ষতার সঙ্গে ভাগ বসিয়েছে বামদের ভোটে। ২০১৩ সালে ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট পেয়েছিল ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশে। এমন ফলাফলের জন্য ত্রিপুরাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব। ত্রিপুরায় দলের ঐতিহাসিক বিজয়কে তিনি ‘বৈপ্লবিক’ অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। রাম মাধব বলেন, ‘এটা শুধু আমাদের প্রতি গণরায় নয়। এটা হচ্ছে ৩৭ লাখ মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। আমরা একটি নতুন ত্রিপুরা গড়ে তুলবো, যেখানে সহিংসতা বা ঘৃণার কোনও স্থান নেই।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপরও জোর দিয়েছে বিজেপি। ত্রিপুরায় বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সেখানে অন্তত ১৯টি আদি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘাতের ইতিহাসও রয়েছে। এ রাজ্যের এক-তৃতীয়াংশ আসন আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত। সিপিআই এম নেতা গৌতম দাসের ভাষায়, ‘ওটাই ছিল আমাদের অন্যতম শক্ত জনভিত্তি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেখানে আমরা প্রায় কিছুই জিততে পারিনি। ওটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি।’
৫০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপি। এর মধ্যে ৩৫ জনই জয়ের মুকুট ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আদিবাসীদের ভোট নিজেদের দিকে টানতে আঞ্চলিক দল পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা-আইপিএফটি’র সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে বিজেপি। বাকি নয়টি আসনে প্রার্থী দিয়ে আটটিতে জয়লাভ করে তারা। বামফ্রন্ট পেয়েছে ১৬টি আসন। দলটির নেতা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বিধায়ক নির্বাচিত হলেও তার সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীরা পর্যুদস্ত হয়েছেন বিজেপি জোট প্রার্থীদের কাছে। একটি কেন্দ্রে বামফ্রন্ট প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। সেটিতে পরে নির্বাচন হবে।
বামফ্রন্টের অভিযোগ, নির্বাচনে জিততে অর্থ ছড়িয়েছে বিজেপি। তবে বিজেপি জোট বলছে, জনগণ তাদের রায় দিয়েছেন। জোট দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে। ধানপুরের নিজ নির্বাচনি আসন থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার। সংবাদ মাধ্যমগুলোর সঙ্গে খুব বেশি কথা বলেননি তিনি। দৃশ্যত তিনি পরাজয় মেনে নিয়েছেন। ভারতের সবচেয়ে কম সম্পদশালী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের এ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ বছর পর মানুষ আমাদের ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়েছে। আমাদের যারা ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা’।