বিজেপি শাসিত আসামে তিন সপ্তাহে ২১জন চা শ্রমিকের মৃত্যু

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আসামের চা বাগানে মৃত্যুর মিছিল চলছে। রাজ্যের গোলাঘাট জেলার দৈয়াং চা বাগানে গত একুশ দিনে ২১জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। নিয়মিত মজুরি ও রেশন না পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে শ্রমিকের মৃত্যু ঘটলেও আসাম সরকার বলছে অতিরিক্ত মদ খেয়ে নাকি শ্রমিকের মৃত্যু ঘটছে। খবর গণশক্তির। দৈয়াং বাগানে প্রায় প্রতিদিন মৃত্যু ঘটছে দেখে আতঙ্কে শ্রমিকরা বাগান ছেড়ে পালাচ্ছেন। গত ২২শে ফেব্রুয়ারি অর্জুন মুণ্ডা (২২) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। এর পরদিন আরও দুইজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সর্বরী মুণ্ডা নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর আগে কয়েকবার বমি, গায়ে জ্বর ও হাইপার টেনশনের লক্ষণ দেখা যায় বলে জানালেন বাগানের ভেতরে থাকা ডিসপেনসারির ডাক্তার  রীনা এক্কা। স্থানীয় বাগান শ্রমিকনেতা অরবিন্দ সোনরা ও সোনেশ্বর নরহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, দৈয়াং চা বাগানটি রাওলাসিয়া গ্রুপের অধিন গ্রোব টি কোম্পানি লিমিটেডের। ব্যক্তি মালিকানাধীন ওই সংস্থা আসামের দৈয়াং ছাড়াও দেসৌ, কানু, তিনতাধীন ও পাথেমারা চা বাগান চালাচ্ছে। বি জে পি-র নেতাদের সঙ্গে সংস্থার মালিকের দহরম-মহরম আছে। রাজ্যে বি জে পি সরকার ক্ষ‌মতায় আসার পর শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি প্রদান বন্ধ করে দেয় বাগান কর্তৃপক্ষ। বহুবার এনিয়ে দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে। শ্রমিকরা আন্দোলনে নামলে এক/দুই সপ্তাহ মজুরি দেয়। বাকি থাকে ৫-৬ সপ্তাহের। মজুরির পাশাপাশি রেশনও বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বাগানের শ্রমিকরা অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শ্রমিকসহ শ্রমিকের পরিবারের লোকেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ইতিমধ্যে বহু শ্রমিক কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বাগানে মোট স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ৫৭৫জন। নতুন পাতা তোলার সময় আরও ৫০০ থেকে ৬০০ অস্থায়ী শ্রমিক নিযুক্ত করেন বাগান মালিক। বাগানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ। এখানে একটি ডিসপেনসারি থাকলেও ডাক্তার সপ্তাহে একদিন আসেন। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শ্রমিকের মৃত্যু মিছিল শুরু হওয়ার পরও ডিসপেনসারির ডাক্তার নিয়মিত আসেননি। মৃত্যু মিছিল আটকাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও বাগানে পাঠায়নি সরকার। এমনকি সরকারের একজন মন্ত্রী আজ পর্যন্ত দৈয়াং চা বাগানের মৃত্য শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়াননি বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। উলটো বি জে পি-র একাধিক বিধায়ক উপহাস করে বলছেন শ্রমিকরা নাকি অতিরিক্ত মদ খেয়ে মরছেন। যেখানে শ্রমিকদের পরিবারের শিশুরাও যখন না খেয়ে মর‍‌ছে, তখন এই মদ খেয়ে মৃত্যু ঘটছে বলে প্রচার করছে বি জে পি।