মুসলিমদেরকে ভালো লাগে বলতেই  হিন্দুত্ববাদী দলের হুমকি, আত্মহত্যা হিন্দু মেয়ের

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বিকম প্রথম বর্ষের ছাত্রী ধন্যাশ্রী, তথ্যানু্যায়ী সে একটি হ্যোয়াটস আ্যাপ গ্রুপে বলে যে মুসলিমদেরকে তার ভালো লাগে, তারপরই বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং ও বিজিওয়াইএম এর কর্মীরা তাকে জালাতন করে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
২০ বছর বয়সি এক তরুণীর আত্মহত্যার পর পরই কর্ণাটকের চিকমাগালুর জেলার মুদুগিরী এলাকার ভারতীয় জনতা যুবো মোর্চার স্থানীয় নেতা, অনিল রাজ কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং আরো বেশ কয়েকজন হিন্দুত্ব কর্মী কে পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে। স্যোশ্যাল মিডিয়াতে তার পোস্টের জন্য মেয়েটিকে হয়রানির শিকার হতে হয় এমন অভিযোগ।

প্রথম বর্ষের ছাত্রী ধন্যাশ্রীর তথ্যানু্যায়ী সে একটি হ্যোয়াটস আ্যাপ গ্রুপে জানায় যে মুসলিমদেরকে তার ভালো লাগে। তারপরই বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং ও বিজিওয়াইএম এর কর্মীরা তাকে জালাতন করে। এরপর মেয়েটি গত তিনদিন আগে ৬ই জানুয়ারী আত্মহত্যা করে।

পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন ধন্যাশ্রীর মা স্বরস্বতী সুবর্ণা,যিনি পেশায় একজন দর্জী। তিনি জানান ৪ জানুয়ারী থেকে তার মেয়ের উপর জালাতন শুরু হয়, প্রথম একটি অপরিচীত নাম্বার থেকে ওর ফোনে কল আসে এবং ওর হ্যোয়াটস আ্যাপ ম্যাসেজ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সে দিনের ফোনকারী ব্যাক্তির বাড়ি ব্যাঙ্গালোর এবং সে বজরং দলের একজন কর্মী। সে নিজেকে সন্তোষ নামে পরিচয় দেয়, সে নাকি ধন্যাশ্রীকে আরো প্রশ্ন করেছিলো যে সে তার ফেসবুকে কয়েকটি ছবিতে মাথায় স্কার্ফ কেন পরেছিলো।

সংবাদ অনুযায়ী, সন্তোষ বারংবার ধন্যাশ্রীকে ফোন করে, এমনকি তার মা সুবর্ণের সঙ্গেও এক সময়ে কথা হয়। সে সুবর্ণাজীকে তার মেয়েকে শাসন করতে বলে, নইলে ওর আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেয় ।

সুবর্ণাজীর বয়ান অনুযায়ী, তার ঠিক পরের দিন একদল লোক তাঁদের বাড়িতে যায়, যারা বজরংদলের কর্মী হিসাবে পরিচয় দেয়। তারা তার মেয়ের চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করার হুমকি দিয়ে আসে।

গত ৬ই জানুয়ারী ধন্যাশ্রী বাড়িতে একাকি থাকাকালীন আত্মহত্যা করে। জানকারি অনুযায়ী সে একটি খাতায় তার আত্মহত্যার কারণ লিখে যায়, সে হিন্দুত্ববাদী এই সব লোকেদের হয়রানি এবং  ওদের করা অভিযোগ যে সে নাকি মুসলিম ছেলের সঙ্গে প্রেম করে এসব সহ্য  না করতে পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তার এই হয়রানির ফলে তার পরিবারের সম্মান নষ্ট হয় বলে সে জানায়।

সুবর্ণাজীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় বিজিএম নেতা অনিল রাজকে গ্রেপ্তার করে। সন্তোষ সহ বাকি অভিযুক্তদের কে ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে খবর।

tdn_bangla_ads