টিডিএন বাংলা ডেস্ক : স্রেফ পায়ের ওপর পা তুলে বসেছিল দুই যুবক। এ ‘অপরাধে’ উচ্চবর্ণের লোকজনের হাতে জীবন দিতে হলো দলিত সম্প্রদায়ের তিন ব্যক্তিকে। দক্ষিণ তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলার কাচানাথম গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। স্থানীয় উচ্চবর্ণের লোকজন তাদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
নিহতরা হলেন- কে অরুমুগম, এ শম্মুগানাথম ও চন্দ্রশেখর। সূত্রে প্রকাশ, ২৬ তারিখ স্থানীয় কারুপ্পাস্বামী মন্দিরের বাইরে পায়ের ওপর পা তুলে বসেছিলেন দুই দলিত যুবক। এতে উচ্চবর্ণের লোকজন আপত্তি করে বলে অভিযোগ। তাদের বক্তব্য, উঁচু জাতের সামনে এভাবে পায়ের ওপর পা তুলে বসে তাদের অপমান করা হয়েছে। এ নিয়ে বেঁধে যায় সংঘাত। দলিত যুবকরা হুমকি দেন, জাত তুলে গালাগালি করলে পুলিশে নালিশ করা হবে।
এ নিয়ে চন্দ্রকুমার নামে একজনের বিরুদ্ধে পুলিশে এফআইআর করা হলে তার ছেলে সি সুমন প্রতিশোধের ছক কষে বলে অভিযোগ। বন্ধুদের নিয়ে সে কাচানাথম গ্রামে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিয়ে গ্রামের পুরুষদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। এছাড়া বাড়িঘর ও অন্যান্য সম্পত্তি নষ্ট করে। ক্ষুব্ধ দলিতরা তিন দিন আন্দোলন করেন। রাজাজি হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকা নিহতদের লাশ নিতে চাননি তারা। দাবি করেন, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করতে হবে, গুরুতর আহতদের দিতে হবে ১০ লাখ টাকা করে। শিবগঙ্গা ও মাদুরাই জেলা প্রশাসন তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ উঠে যায়।
এছাড়া ঠিক হয়, স্থানীয় পালায়ানুর ও থিরুপ্পাচেথি পুলিশ স্টেশনের সাব ইন্সপেক্টরদের সাসপেন্ড করা হবে, পালায়ানুর থানার সব পুলিশকর্মীর পদাবনতি হবে, কাচাথানম গ্রামে বসানো হবে পুলিশ ফাঁড়ি। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ সব সময় উচ্চবর্ণদের পক্ষ নিয়েছে, দলিতদের অভিযোগপত্র গ্রহণই করে না তারা। যদি তারা সময়মত ব্যবস্থা নিত, তবে এভাবে তিনজনের প্রাণ যেত না বলে তারা দাবি করেছেন।