স্পোর্টস ডেস্ক, টিডিএন বাংলা : মাথা নিচু করে রয়েছেন। রাজ্যের হতাশা মাসেরানোর চেহারায়। হিগুয়াইনের মাথা চুইয়ে ঘাম ঝড়ে পড়ছে। কাবায়েরোর চোখে মুখে ক্ষমা চাওয়ার আকুতি। ৮০ মিনিটে লুকা মদ্রিচ যখন গোল করলেন তখনকার চিত্র এটি। এক ছবিতেই পুরো আর্জেন্টিনার চিত্র। বিশ্বকাপে শত আশা নিয়ে আসলেও টানা দুই ম্যাচ জয়হীন থেকে বিশ্বকাপ স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে গেল মেসিদের। এখন অন্যদের উপর নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে যাওয়া।

বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপে ফেরার ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বাজেভাবে পরাজিত হয় সাম্পাওলির শীষ্যরা। এই পরাজয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে টিকে থাকাই এখন কঠিন হয়ে গেছে মেসিদের।

সমীকরণ বলছে, আইসল্যান্ড যদি নাইজেরিয়াকে হারিয়ে দেয় তাহলে বিশ্বকাপের সলিল সমাধি হবে মেসিদের।

লিওনেল মেসিকে সমর্থকরা ফুটবলের ঈশ্বর হিসেবেই মনে করেন। এই মেসির কারণেই আর্জেন্টিনার সমর্থন করে আসছেন কোটি কোটি ভক্ত। কিন্তু সেই ভক্তদের জন্য রাশিয়া বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ খেলে তেমন কিছুই করতে পারেননি মেসি।

প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপের নতুন দল আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার জন্ম দেন মেসি। আর্জেন্টিনা ভক্তদের বিশ্বাস ছিল, বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জাদু দেখাবেন বার্সেলোনার তারকা। তার পারফরম্যান্সে ভর করেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করবে আর্জেন্টিনা।

কিন্তু হয়েছে তার উল্টোটা। ৯০ মিনিটের খেলায় মেসিকে কোনো সুযোগ দেয়নি ক্রোয়েশিয়ার ফুটলাররা। যদিও পুরো ম্যাচের ৫৭ শতাংশ বল ছিলো আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের দখলে। বেশি সময় বল দখলে রাখলেও তেমন বেশি আক্রমণে যেতে পারেননি মেসি-দিবালারা।

৪৩ শতাংশ বল দখলে রাখা ক্রোয়েশিয়া একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনার শিবিরে। ১৪টি শট নেয় তারা। যদিও প্রথম গোল করার পর ডিফেন্সিভ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। এই সময়ে আজের্ন্টিনাএকাধিক সুযোগ পেলেও তা গোলে পরিণত করতে পারেনি।

২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়ের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচে হারল আর্জেন্টিনা।