ধোনি-পাণ্ডে ঝড়ও কাজে এলোনা, পাল্টা প্রোটিয়া ঝড়ে উড়ে গেল কোহলিরা

0

স্পোর্টস ডেস্ক, টিডিএন বাংলা : ঘরের মাঠে অবশেষে স্বমহিমায় ফিরলেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। এক উইকেটকিপারের জবাব দিয়ে গেলেন আর এক উইকেটকিপার। মহেন্দ্র সিং ধোনির মঞ্চে নায়ক হয়ে উঠলেন আর এক উইকেটকিপার। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হেনরিক ক্লাসেন। পাল্টা আক্রমণ করার জন্য চার নম্বরে ক্লাসেনকে নামিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজ বাঁচাতে উপায়ও ছিলো না। নইলে যে ওয়ানডের মতো টি-২০ সিরিজও খোয়াতে হতো স্বাগতিকদের। আর তাতে কেবল দীর্ঘশ্বাসই বাড়তো। তবে শেষ পর্যন্ত তা হতে দেননি ক্লাসেন-ডুমিনিরা।

সফরকারী ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০-তে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে তিন ম্যাচ সিরিজের সমতায় ফিরলো স্বাগতিকরা। সেঞ্চুরিয়ানে টস জিতে কোহলিদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান প্রোটিয়া অধিনায়ক জে পি ডুমিনি। শুরুতে রোহিত শর্মার উইকেট খোয়ায় ভারতীয় দল। ওয়ানডাউনে নামা সুরেশ রায়নার সঙ্গে জুটি না গড়তেই ব্যক্তিগত ২৪ রানে বিদায় নেন আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান। এরপর ক্রিজে আসা বিরাট কোহলি মাত্র ১ রানে বিদায় নেন। তাতে ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টিম ইন্ডিয়া।

এরপর বিপদে পড়া দলকে টেনে বের করতে মাঠে আসেন ধোনি। অনেক দিন ধরেই ওয়ান ডে-তে পুরনো মেজাজে দেখা যায়নি তাকে। সেই ফিনিশার-কেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না দীর্ঘ দিন। যার ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, ধোনিকে কি পরের বছর বিশ্বকাপের নীল নকশায় রাখা উচিত? বুধবার রাতে সেঞ্চুরিয়নে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন, এতটা হয়তো বলা যাবে না। কিন্তু এটা ভালো করে বোঝা গেল, ধোনি এখনো ফুরিয়ে যাননি। প্রয়োজনের সময় এখনও তার ব্যাট ভরসা দিতে পারে ভারতীয় দলকে।

একটা সময় যখন মনে হচ্ছিল, ভারত হয়তো ১৬৫-১৭০ রানের মধ্যে থেমে যাবে, তখনই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন ধোনি। করে গেলেন ২৮ বলে অপরাজিত ৫২। মারলেন চারটে চার, তিনটে ছয়। শেষ দু’ওভারে ধোনি নিলেন ২৮ রান। ইয়র্কার বা শর্ট—কোনো বলেই আটকানো যায়নি তাকে। শেষ ওভারে ডেন প্যাটারসনকে একস্ট্রা কভারের ওপর দিয়ে মারা ছয়ের মধ্যে দেখা গেছে ধোনির সেই পাশবিক শক্তি। ধোনি এবং মণীশ পাণ্ডের দাপটে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে তুলল ৪ উইকেটে ১৮৮। দু’জনের জুটিতে উঠল ৯৮ রান। মণীষের ৪৮ বলে অপরাজিত ৭৯ রানে রয়েছে ছ’টা চার, তিনটে ছয়। যার বেশির ভাগই এসেছে পুল শটে।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩৮ রানেই দুই ওপনারকে খোয়ায় স্বাগতিকরা। কে ভেবেছিলো চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা হেনরিক ক্লাসেন সফরকারীদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হবেন। ক্রিজে এসেই তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় টি২০ খেলতে নামা ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। মাত্র ৩০ বলে ৭ ছক্কা ও ৩ চারে ৭৯ রানে তিনি যখন সাজঘরে ফেরেন তখন প্রোটিয়াদের জয়ের পথটা অনেকটা সুগম হয়ে যায়। কারণ অপরপ্রান্তে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট চালাচ্ছিলেন অধিনায়ক ডুমিনি।

ক্লাসেনের ফেরার পর মিলার দ্রুত সাজঘরে ফিরলে দক্ষিণ আফ্রিকার আকাশে ফের মেঘ জমতে থাকে। তবে বেহারডিনকে নিয়ে বাকি কাজটা সারেন ডুমিনি। ৩ ছক্কা ও ৪ চারে ৪০ বলে অপরাজিত ৬৪ রানে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যখন ড্রেসিংরুমে ফেরেন তখনও ইনিংসের ৮ বল বাকি। তাতে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ দু’টি উইকেট পেয়েছেন উনাদকাট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন হারদিক পান্ডে ও অভিষিক্ত এসএন ঠাকুর। ভারতীয় বোলারদের উপর তাণ্ডব চালিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন হেনরিক ক্লাসেন। আগামী রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে হবে তৃতীয় ও শেষ টি-২০।