মেক্সিকোতে ধরাশায়ী জার্মানি, আর্জেন্টিনার দশা ব্রাজিলের

0

স্পোর্টস ডেস্ক, টিডিএন বাংলা : এবারের বিশ্বকাপের প্রথম অঘটনের জন্ম দিলে মেক্সিকো। রোববার গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। দারুণ গতিময় ও আর আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণের খেলায় ৩৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি জার্মানি।

গতি আর নিখুঁত পাসিংয়ের জন্য বিখ্যাত যে জার্মানি, তারাই আজ দেখলো মেক্সিকোর গতির খেল। খেলার প্রথম ২০ মিনিটে বল দখলে এগিয়ে ছিলো মেক্সিকো। এরপর জার্মানরা বলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ালেও মেক্সিকো করেছেন বেশ কয়েকটি আচমকা আক্রমণ। বেশ কয়েকবার কাউন্টার অ্যাটক করে জার্মানির ডি-বস্কে ঢুকেও গোল পায়নি মেক্সিকো। বেশির ভাগ সময়ই বল থাকছে মেক্সিকোর অর্ধে, কিন্তু জার্মানির প্রতিটি আক্রমণ তারা ব্যর্থ করে দিয়ে বারবার কাউন্টার অ্যাটাক করেছে। ভালো ফিনিশিংয়ের কারণে নষ্ট হয়েছে কয়েকটি সম্ভাবনা। ভালো ফিনিশং হলে দলটি আরো অন্তত তিনটি গোল পেতে পারতো।

মেক্সিকোর সব কটি আক্রমণই ছিল প্রায় একই স্টাইলে। মাঝমাঠ থেকে লম্বা পাসে বক্সের কাছাকাছি ফরোয়ার্ডের পায়ে। ১৮ মিনিটে একা বল নিয়ে জার্মানির বক্সে ঢুকেও শট নিতে পারেননি মেক্সিকোর হাভিয়ের হার্নান্দেজ। ২৩ মিনিটে আক্রমণে যায় জার্মানি। টনি ক্রুসের শট আটকে দেন মেক্সিকোর গোল কিপার। ৩৪ মিনিটে জার্মানির বক্সের সামনে বল পেয়েও পা ছোঁয়াতে পারেননি মেক্সিকোর মিগেল লায়ুন।

৩৫ মিনিটে আবার একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সফলতা পায় সবুজ জার্সিধারীরা। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে দৌড়ে জার্মানির সীমানায় প্রবেশ করেন মেক্সিকান ফরোয়ার্ড হার্নান্দেজ। বোয়েটাং ও হামেলসকে ফাঁকি দিয়ে বাম প্রান্তে পাস দেন তরুণ ফরোয়ার্ড লোজানোকে। বন নিয়ে বক্সে ঢুকে মেসুত ওজিলকে কাটিয়ে ডান পায়ের শটে লক্ষ্য ভেদ করেন(১-০)।

এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। ৩৯ মিনিটে মেসতু ওজিলের ফ্রি-কিক কিপারের হাত ছুয়ে ক্রসবারে লাগে। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে আক্রমণে গিয়েছিলো মেক্সিকো। ভেলার বল সাইডবারের পাশ দিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও মেক্সিকো ছিলো অসাধারণ ছন্দে। তবে এই অর্ধে ষাট মিনিটের পর আবার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জার্মানি। ৬১ ও ৬৫ মিনিটে দুটি সুযোগ নষ্ট করেছেন ড্রাক্সলার ও কিমিখ। ৬৭ মিনিটে টিমো ভেরনা মিস করেছেন সহজ সুযোগ। শেষ দিকে লিড ধরে রাখতে ৮-৯ জন মেক্সিকান ডিফেন্স সামলেছেন। তাই জার্মানির ফরোয়ার্ডরা কাজে কাজ করতে পারেনি। এই ম্যাচে জার্মানির মাঝমাঠে বাস্তিয়ান শোয়েস্টাইগার কিংবা স্ট্রাইগার মিরোস্লাভ ক্লোসার বিকল্প তৈরি না হওয়ার বিষয়টি ভালোই চোখে লেগেছে। গতবার জার্মানির কাপ জয়ে দুজনের ছিলো অগ্রণী ভুমিকা। দুজনেই জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও তাদের বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজে পায়নি জার্মানি।

এদিকে দিনের অন্য ম্যাচেও বড় অঘটন প্রায় ঘটেই গিয়েছিল। আগের দিন নবাগত আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র (১-১) নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা। এবার একই দশা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলেরও। অপেক্ষাকৃত দুর্বল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো সাম্বারদেশকে। তাও আবার একই ব্যবধানে, ১-১ সমতায়।

রোস্তভ অন ডনে সতর্ক শুরু করে ব্রাজিল। প্রথমে ছোট ছোট পাসে খেলে দলটি। তবে তাতেও কাজ হচ্ছিল না। পরে পাসের কিছুটা দৈর্ঘ্য বাড়ায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার সাফল্যও আসে। ২০ মিনিটে দূরপাল্লার শটে নিশানাভেদ করে দলকে লিড এনে দেন ফিলিপে কুতিনহো।

এগিয়ে গিয়ে বেশ ছন্দময় ফুটবল উপহার দেয় ব্রাজিল। মুহূর্মহু আক্রমণে সুইজারল্যান্ডকে ঠেসে ধরেন নেইমাররা। তবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আর আসেনি। এতে ১-০তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় শিরোপাপ্রত্যাশীরা।

তবে সেই স্কোরলাইন ধরে রাখতে পারেননি নেইমাররা। গোলও হজম করেন তারা। ৫০ মিনিটে তাদের জালে বল জড়ান স্টিভেন জুবার। এতে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড।

এরপর ব্যবধান বাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে ব্রাজিল। কিন্তু বারবারই সুইস গেটে আটকে গেছেন সেলেকাওরা। সুইজারল্যান্ডের ইস্পাত-পাথর গেট টপকাতে পারেননি তারা।