ব্যাঘ্রগর্জন মুশফিকুরের ব্যাটে, সিংহলীদের তছনছ করে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের

0

স্পোর্টস ডেস্ক, টিডিএন বাংলা : অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়, অবিস্মরণীয়। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের ইতিহাসের রেকর্ড গড়া এক জয় পেলো বাংলাদেশ। কলম্বোর আর প্রেমাদাসায় বাংলাদেশ গড়েছে ইতিহাস। টি-টোয়েন্টিতে ৪র্থ সর্বোচ্চ রানতাড়া করে ৫ ম্যাচের জয়খরা কাটিয়েছে মুশফিকুর রহিমের ৩৫ বলে ৭২ রানের অতিমানবীয় এক ইনিংসে। অবিশ্বাস্য এই ইনিংসে ঘরের মাঠের শ্রীলঙ্কাকে ২ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিধ্বংসী সূচনা করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর লিটন দাস। উদ্বোধনী জুটিতে ৫.৫ ওভারেই তারা তুলে ফেলেন ৭৪ রান। অবশেষে ১৯ বলে ২ চার আর ৫ ছক্কায় ৪৩ রান করে নুয়ান প্রদীপের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান লিটন। ভেঙে যায় বিধ্বংসী জুটিটা।

Advertisement
head_ads

ফিফটির খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। ব্যাটে ঝড়ও চলছিল। হঠাৎ থিসারা পেরেরার বলটা বুঝতে না পেরে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দিলেন এই ওপেনার। ২৯ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় তার ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংসটা থেমেছে তাতেই। যখন নেমেছিলেন মুশফিক, তখনও বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৬৩ বলে ১১৫ রান।  রিভার্স সুইপে চার মেরে শুরু করেছিলেন মুশফিক, চামিরাকে চার মেরে করেছেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি। খোঁড়াচ্ছিলেন ফিফটির আগে থেকেই, শেষে গিয়ে নিজের শরীরের সঙ্গেই লড়াই চলছিল তার। মুশফিক সে লড়াইয়ে জিতলেন কি দারুণভাবেই! ১১ বলে ২০ রান করে আউট হন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এর আগে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে লঙ্কানরা কুশল মেন্ডিস আর কুশল পেরেরার ঝড়ে প্রথমে ব্যাট করে তুলে ৬ উইকেটে ২১৪ রান। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে শ্রীলঙ্কা। উদ্বোধনী জুটিতে ৪.২ ওভারেই ৫৬ রান তুলে ফেলেছিল চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। অবশেষে বিধ্বংসী এই জুটিটা ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসারের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে স্ট্যাম্পই উড়ে যায় ২৬ রান করা দানুষ্কা গুনাথিলাকার।

এরপর কুশল মেন্ডিস আর কুশল পেরেরা- দুই কুশল মিলে বাংলাদেশি বোলারদের উপর ভালোই তাণ্ডব চালিয়েছেন। দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ৮৫ রানের জুটি। অবশেষে এই জুটিটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের ১৪তম ওভারে টাইগার অধিনায়কের বলে সাব্বির রহমানের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ৩০ বলে ৫৭ করা কুশল মেন্ডিস।

একই ওভারে দাসুন শানাকাকে শুন্য রানে আউট করে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়েছেন রিয়াদ। এই ক্যাচটিও নেন সাব্বির। এরপর তাসকিন আহমেদের বলে আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচ সাব্বিরের। এবার আউট ২ রান করা চান্দিমাল। তবে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারলেও লঙ্কানদের রানের গতি আটকাতে পারেনি টাইগাররা।

শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজকে খেলতে গিয়ে বল উপরে তুলে দেন কুশল পেরেরা। উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ৪৮ বলে ৭৪ রান করা এই ব্যাটসম্যান। একই ওভারে এক বল পরই থিসারা পেরেরাকে শুন্য রানে নাজমুল অপুর ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। উপুল থারাঙ্গা অপরাজিত ছিলেন ১৫ বলে ৩২ রানে।

এর আগে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে টস হতে পারেনি। ১৫ মিনিট বিলম্বে টস হয়। বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা দুই দলই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে।

শ্রীলঙ্কা : ২১৪/৬, ২০ ওভার (পেরেরা ৭৪, মেন্ডিস ৫৭, থারাঙ্গা ৩২*, মুস্তাফিজ ৩/৪৮, মাহমুদউল্লাহ ২/১৫)

বাংলাদেশ : ২১৫/৫, ১৯.৪ ওভার (মুশফিক ৭২*, তামিম ৪৭, লিটন ৪৩)

ফল- বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

head_ads