টিডিএন বাংলার খবরের জের, আফরাজুলের মেয়েকে দেওয়া হলো ৬ হাজার টাকার চাকরির নিয়োগ পত্র

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মালদা : মালদার শ্রমিক আফরাজুল হত্যার সাত মাস পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে আফরাজুলের পরিবারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মালদার জেলা শাসক কৌশিক ভট্টাচার্য্য।

দীর্ঘ সাত মাসের বঞ্চনা নিয়ে টিডিএন বাংলায় আফরাজুলের খবর লাগাতার ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। রাজস্থানে খুন হওয়া আফরাজুলের পরিবারের হাতে মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মালদহের জেলা শাসক কৌশিক ভট্টাচার্য্য। আজ জেলা শাসকের দপ্তরে দুপুরের দিকে আসেন মৃত আফরাজুলের স্ত্রী গুলবাহার বেওয়া। মালদহ জেলায় নতুন একটি সরকারী হোমের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সেই হোমেই আফরাজুলের মেয়েকে চাকরী দেওয়া হলো।

আরও পড়ুন —কোন অপরাধে বাবাকে পুড়িয়ে মারা হল? প্রশ্ন আফরাজুলের তিন মেয়ের

আফরাজুলের স্ত্রী গুলনাহার বেওয়া জানালেন, এখন স্বামীর হত্যাকারী যেন শাস্তি পায় সেটাই দেখতে চায়।জেলা শাসক কৌশিক ভট্টাচার্য্য জানালেন সমাজ কল্যান দপ্তরের অধিনে থাকা হোমে আফরাজুলের মেয়ের জন্য নিয়োগ পত্র দেওয়া হলো। সাত দিনের মধ্যে চাকরী যোগদিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইতিপূর্বে মুখ্য মন্ত্রীর নির্দেশে তিন লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাড়ি তৈরির জন্যও আলাদা ভাবে সরকারী টাকা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন —শ্রমিক ও মুসলিম হওয়ার কারণেই নৃশংসভাবে খুন হতে হলো আফরাজুলকে

এদিন গুলবাহার বিবির ৭৫০ টাকা মাসিক বিধবা ভাতার কথাও জানান ডিএম। মেজো মেয়ে রোজিনা খাতুন কে ৬০০০ টাকার মাসিক ভাতার চাকরি দেওয়া হল। কিন্তু এই সামান্য টাকায় কিভাবে পরিবার চলবে তানিয়ে চিন্তিত আফরাজুলের পরিবার।

আরও পড়ুন —আফরাজুল খানের ছোট মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলো ওয়েলফেয়ার পার্টি

গুলবাহার বিবি জানান, ৭৫০ টাকায় কিভাবে সংসার চালাবো ভেবে পাচ্ছিনা। আর মেয়ে যেখানে চাকরি পাচ্ছে ৬০০০ টাকায় সেখানে যেতে আসতেই ১৫০০ টাকা ফুরিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন —তিন কন্যার শ্রমিক পিতা, আজ সভ্যতার জ্বলন্ত চিতা, একবিংশেও বিপন্ন মানবতা

ওয়েল ফেয়ার পার্টির মালদা জেলা সভাপতি মহঃ শাজাহান আলী বলেন, টিডিএন বাংলার খবরের জেরেই প্রায় সাত মাস পর আফরাজুলের পরিবারকে সরকার চাকরির নিয়োগ পত্র দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আফ্রাজুল হত্যার পর পরই ময়দানে নামে ওয়েলফেয়ার পার্টি ।শুরু থেকেই এই ইস্যুতে লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছে পার্টি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারে একটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রতি এতদিনে বাস্তবায়ন হলো। ভালো কথা।এবারে মূল অভিযুক্ত যাতে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি পায় তার জন্য রাজ্য সরকারকে সরাসরি সমস্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। না হলে আফ্রাজুলের পরিবার সুবিচার পাবে না।শান্তিতে বাস করতে পারবে না ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাঙলার শ্রমিক গুলো !’

আরও পড়ুন — তোমাকে ওই ভাবে পুড়িয়ে মারবে জানলে রাজস্থানে কাজে যেতে দিতাম না : আফরাজুলের শোকার্ত স্ত্রী

ফ্রেটারনিটি মুভমেন্টের রাজ্য সভাপতি আরাফাত আলী বলেন, আফরাজুল কাণ্ডে লাভ জিহাদের তকমার বিরুদ্ধে আমরাই প্রথম আন্দোলনে নেমে ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই। আমরা তিন লক্ষ টাকার চেকও তুলে দিয়েছি পরিবারটির হাতে। কিন্তু ৭৫০ টাকার মাসিক ভাতায় কিভাবে সংসার চলবে? সেই সঙ্গে তিনি বাংলায় কাজের সুযোগ বৃদ্ধির ও দাবি তোলেন। ভিন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিও জানান তিনি।