ভাঙড়ের জমি কমিটিকে ডাকল প্রশাসন

0

হাফিজুল ইসলাম, টিডিএন বাংলা, ভাঙড় : দু’বছর অধিক সময় ধরে  লাগাতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে এসেছে ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড বিরোধী গ্রামবাসীরা। তিন তিনটি তরতাজা প্রাণও চলে গেছে। তবুও রোধ করা গেল না ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রীড বিরোধী আন্দোলন। অবশেষে আলোচনায় বসতে হল সরকারকে। যদিও  জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি লাগাতার ভাবে দাবি জানিয়ে গেছে যে প্রশাসনিক ও সরকারি স্তরে আলোচনার মাধ্যমে পাওয়ার গ্রিড সমস্যার সুষ্ঠু ও সর্বজনগ্রাহ্য সমাধান খোঁজা হোক, এতদিন অবধি আবেদনে কর্ণপাত না করে সন্ত্রাসের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করার একটা প্রক্রিয়া চালিয়েছে।

অবশেষে, কমিটির মুখপাত্র অলিক চক্রবর্তীকে অসুস্থ  অবস্থায় ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার করার পরেও যখন আন্দোলনের তীব্রতা কমানো না গেল। আপসহীন মনোভাব নিয়ে হাজার হাজার গ্রামবাসী রোজ রাস্তায় নামছে, মশাল মিছিল নামে তখনই প্রশাসনিক স্তরে কমিটির কিছু সদস্যের সাথে আলোচনায় বসার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়। জেলাশাসকের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে শনিবার  আলোচনায় ডাকা হয়।চিঠিতে ডাকা হয় কিছু সদস্য ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের জয়ী প্রাথীদের।

জমি কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোসারেফ হোসেন  বলেন, “আমরা  দ্ব্যর্থহীন ভাবে  প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি যে, আমরা যেমন মনে করি যে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব, আমরা আলোচনার রাস্তা কখনোই বন্ধ করতে চাই না, তেমনই সরকার যদি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে আন্তরিক হয়, তাহলে অবশ্যই তারা অলীক চক্রবর্তীকে মুক্তি দেওয়ার মধ্যে দিয়ে, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,যাদেরকে   বহিরাগত ‘তকমা’  দিচ্ছেন তাদেরকে নিয়ে আলোচনায বসতে হবে এবং জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটিকে নিঃশর্ত ভাবে আলোচনায় আহ্বান করার মধ্যে দিয়ে সদর্থক ও ফলপ্রসূ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করবে। “তিনি আরও বলেন, “এলাকায়  প্রাথমিক  স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কৃষি হিম ঘর স্থাপন, পাকাপোল  টু বোয়ালঘাটা রোড বেহাল দশা সাজিয়ে উন্নয়ন করার প্রস্তাব দিয়েছে।”

প্রশাসন সূত্রে খবর “আজ গ্রামবাসীদের সঙ্গে দু ঘন্টার বেশি আলোচনা হয়েছে আমরা ওনাদের  পক্ষ থেকে  দাবি খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে পাওয়ার গ্রিড হবে কি হবে না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। আগামী দিনে আবারও আলোচনা বসা হবে।”  জমি কমিটির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  জাহানারা বিবি, ছালেয়ারা বিবি, এস্রাফিল মোল্লা, অলি মোহম্মদ, সাজারুল ইসলাম প্রমুখ সদস্যরা। প্রশাসনের তরফে উপস্থিত ছিলেন ডিএম ওয়াই রত্ন কর, বারুইপুর এস পি অরিজিত সিংহ  ছাড়াও পিজিসিআইএল এবং নবান্নের প্রতিনিধিরা।