২৬১ বছর পরেও অবহেলিত ঐতিহাসিক পলাশী, আগাছায় ঢেকেছে মনুমেন্ট!

0

রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, নদীয়া : পলাশীর আমবাগানে ১৭৫৭ সালে আজকের দিনটিতেই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার সঙ্গে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধের স্মৃতিতে পলাশীতে একটি স্তম্ভ প্রোথিত করা হয় যা পলাশী মনুমেন্ট নামে পরিচিত।

নদীয়া-মুর্শিদাবাদের একেবারে সীমান্তে ভাগীরথী নদীর পাড়ে এই পলাশীর আমবাগানেই হয়েছিল সেই ঐতিহাদিক যুদ্ধ। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজের পরাজয় হয়েছিল কিছু বিশ্বাসঘাতকের ষড়যন্ত্রে। কিন্তু সে তো ১৭৫৭ সালের কথা। আজ ২৬১ বছর পরে সেই পলাশীর প্রান্তর আজও পড়ে আছে অবহেলায়। নেই রক্ষণাবেক্ষণ নেই পরিচর্যা। আগাছায় ঢেকেছে এই ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধটি।

Advertisement
head_ads

পলাশী রেলষ্টেশনের পাশেই ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। ৫ কিমি দুরেই পলাশী মনুমেন্ট। জনবসতি খুব কম। তবে যাতায়াতের রাস্তা ও গাছগাছালি দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। সেই আম বাগান আজ আর নেই। গাছ কেটে হয়েছে চাষের জমি। পাকা রাস্তাটা যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে সেখানেই অসহায়ের মত ঠাঁই দাঁড়িয়ে পলাশীর মনুমেন্টে। ভিতরটা ঘাসে ঢাকা। প্রাচীর বেয়ে উঠেছে নাম না জানা কত গুল্ম লতা। দেখভালের লোক নেই। মনুমেন্টের ঠিক পিছনেই মাঠের ধুলো কাদার কাঁচা রাস্তা। বর্ষার সময় জমে জল কাদা। কয়েকটি ছোট ছোট সরকারি ঘর, কিছু চায়ের দোকান ছাড়া কিছুই নেই এখানে। মনুমেন্টের একপাশেই আছে নবাবের আবক্ষ মু্র্তি। পর্যটকদের দেখা বলতে শুধু ঐটুকুই।

প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে কারে বা বাইকে অনেকেই ঘুরতে আসছেন এই ঐতিহাসিক স্থানটিতে। এসেই হয়ে পড়ছেন মনমরা। মরচে ধরা লোহার গ্রিলটা সরিয়ে মনুমেন্টের নীচে দাঁড়িয়ে দুএকটা ফোটো তুলেই বিষণ্ণ মনে তারা ফিরে যাচ্ছেন বাড়ি। এদিন খাবির বিশ্বাস ও ইমরান মন্ডল নামে দুজন শিক্ষক ঘুরতে এসেছিলেন নদিয়ার করিমপুর থেকে। দুঃখের সুরে টিডিএন বাংলাকে বললেন, ‘অনেক আশা নিয়েই এসেছিলাম এখানে। এসেই মনটা যেন কেমন হয়ে গেল। এত অবহেলা! নেই সরকারি নজর। শুধু আগাছা আর জঙ্গল। দেশের জন্য বীর শহীদ নবাব সিরাজদ্দৌলার শেষ স্মৃতি টুকুও আজ ধ্বংসের মুখে।’ আবার অনেকেই একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন বড় বড় গাছের নিচে। মনুমেন্টের সামনেই একজন ইঞ্জিন ভ্যানে বিক্রি করছেন আখের রস। পর্যটকদের এখানে এসে খাওয়া বলতে এই আখের রস আর ঐ দোকানের চা।

একটু দূরেই আছে চিনিকল। পাশেই বয়ে গেছে গঙ্গা। মনুমেন্টের চারপাশ ডেকেছে আগাছায়। ঠিক পিছনেই বিশাল এক বট গাছ। তাকে ঝুলছে হাজারো বাদুড়। আর তিনশ মিটার যেতেই মিলবে তিনটি সমাধিক্ষেত্র পাশাপাশি। পাটের জমির এক কোনে চরম অবহেলায় দাঁড়িয়ে। কিন্তু যাতায়াতের রাস্তা নেই। চাষের জমির আল ধরেই যেতে হবে সেখানে। মানুষ উঁচু পাটের গাছ ঢেকে নিয়েছে সৌধগুলি। কাঁচা রাস্তায় দাঁড়িয়ে উঁকি মেরে দেখতে হয়। কাছে যাবার উপায় নেই। আছে সাপ খোপের ভয়। নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি মোহনলাল সহ তিন জনের স্মৃতি সৌধ গুলি এভাবেই আজও অবহেলিত।

head_ads