প্রশান্ত দাস, টিডিএন বাংলা, মালদা : ফের ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মালদহের শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু। তবে তা খুন না অন্য কিছু তানিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।  এবার হায়দ্রাবাদে গিয়ে প্রাণ হারালেন কালিয়াচক থানার গয়েশবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চাষপাড়া গ্রামের এক শ্রমিক। মৃতের নাম সারিউল হক (৩৪)। আজ সাতসকালেই ফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছয় গ্রামে। নিমেষেই শোক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২০ জন শ্রমিকের সঙ্গে তিনিও মাস দু’য়েক আগে হায়দ্রাবাদে গিয়েছিলেন। মূলত শ্রমিক সরবরাহ ও দেখাশোনার কাজ করতেন সারিউল। সেখানে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। একটি বেসরকারি কোম্পানির অধীনে তাঁরা সেই কাজেই নিযুক্ত ছিলেন। এদিন ভোরেই জেসিবির ধাক্কায় সারিউল হায়দ্রাবাদে মারা যান। সেখান থেকে তাঁর সহকর্মী শ্রমিকরা ফোন করে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, রমজানের রোজা রাখার জন্য ভোররাতে শেহরি (খাবার) খাওয়ার পর নির্মিয়মাণ সড়কের পাশেই পাথরকুচির একটি স্তূপে সারিউল ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।গোটা শরীর পলিথিনের আবরণে মোড়ানো ছিল। কাকভোরে প্ল্যান্টেরই একটি জেসিবি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মারে। মাথা ও গলা গুরুতর জখম হওয়ায় সেখানেই তিনি মারা যান। সেই গাড়ির চালক নাকি তাকে লক্ষ্য না করেই জেসিবি চালাতে শুরু করেছিলেন বলে হায়দ্রাবাদ থেকে মৃতের সহকর্মী শ্রমিকরা ফোনে পরিবারকে জানিয়েছেন। যদিও পরিবারের সদস্যরা সহজেই ‘দুর্ঘটনা’ মানতে পারছেন না।

তাদের সন্দেহ, ঘুমন্ত অবস্থায় খুনও হয়ে থাকতে পারেন সারিউল। ইচ্ছাকৃতভাবেই তার উপর দিয়ে জেসিবি চালানো হয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মৃতের স্ত্রী সুমি বিবি। এদিন হায়দ্রাবাদেই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। কালিয়াচক থানার পুলিশ সারিউলের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পর হায়দ্রাবাদ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।  মৃত সারিউলের পরিবারে স্ত্রী সুমি বিবি ছাড়াও রয়েছে তিন নাবালক সন্তান।