আল কুরআন বিশ্ব মানুষের শান্তি ও মানবতার জন্য এসেছে : এসআইও

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: আল কুরআন বিশ্ব মানুষের শান্তি ও মানবতার জন্য এসেছে বলে মন্তব্য করলেন এসআইও নেতারা। বরাবর ছাত্র সংগঠনটি ঐশী পথ নির্দেশনা অনুযায়ী। ছাত্রদের চলার কথা বলে। রবিবার কলকাতার পার্ক সার্কাসের টিবি এসোসিয়েশনের হল রুমে এসআইও-র পক্ষ থেকে ‘কুরআন-শান্তি ও মানবতা’ শীর্ষক সেমিনার হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, কুরআন দুনিয়াতে এসেছে বিশ্ব মুক্তির জন্য।
অধ্যাপক আয়াতুল্লাহ ফারুক টিডিএন বাংলাকে বলেন,”কোরআন মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে সমগ্র জাতির জন্য এসেছে। অনেকেই এটা মনে করেন যে মুসলমানদের একটা ধর্মগ্রন্থ কোরআন। কিন্তু জেনে রাখা ভালো,কোরআন সকলের জন্য, সমস্ত মানুষের জন্য। পৃথিবীর সকল মানুষ কোরআন থেকে উপকৃত হবে।”
সংগঠনটির রাজ্য সম্পাদক ইমাম হোসেনের কথায়,”কুরআন একটি গাইড লাইন। মানুষ কিভাবে জীবনে চলবে তা এখনে সৃষ্টি কর্তা বলে দিয়েছেন।”
জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুর রফিক,মানবীয় ঐতিহ্য, ঐক্য ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। একটি অখন্ড বিশ্ব গঠনে আল কুরআনের ভূমিকার কথা বলেন কেরলের আল জামিয়া আল ইসলামিয়া সন্তাপুরামের অধ্যাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন গাজি। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার কিভাবে কুরআন সমাধান দেয় তার উপর বক্তব্য রাখেন আলিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইদুর রহমান। এদিন এসআইও-র কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহাস মালা বলেন,”সততা, বিশ্বস্ততা এবং নির্ভরযোগ্যতা উত্তম চরিত্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ। সামাজিকতা,মেজাজ নিয়ন্ত্রণ সহ একটি মানুষের সকল মানবীয় গুণের বিকাশের মাধ্যমে একটি আত্মবিশ্বাসী জাতি উপহার পেতে কুরআনের বিকল্প নেই।
একজন মানুষ কিভাবে আদর্শ মানুষ হয়ে উঠবে তা বলে দিয়েছে কুরআন। মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে সৃষ্টি কর্তার পক্ষ থেকে মানুষের জন্য এটা একটা পথ নির্দেশক। সৃষ্টির উচিত স্রষ্টার উপদেশ মেনে নেওয়া। কেননা, এতেই মানুষের কল্যাণ আছে।”
সেমিনারে তাফসীর লেখার ইতিহাস ,জাত ব্যবস্থা,সাম্প্রদায়িকতা ও ইসলামী সমাধান নিয়েও আলোচনা হয়।
স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সভাপতি ওসমান গনি জানান,কুরআন যে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান সেটা সকলের জানা। কিন্তু আজকের যুগে ব্যাক্তি ও সমাজ সমস্যার কিভাবে কোরআন সমাধান দিয়েছে তার উপর বিষয় ভিত্তিক আলোচনা হয়। এদিন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দীন বলেন,” মানুষ ভ্রান্তশিক্ষা, অন্ধবিশ্বাস, ইত্যাদির কারণে মানুষের মধ্যে জাত বিচার করে। কখনো ধর্মের ভিত্তিতে কখনো ভৌগোলিক জাতীয়তার ভিত্তিতে কখনো জন্মের ভিত্তিতে উঁচু-নিচু ছোট বড় জাতের বিচার করা হয় । এ বিষয়ে অত্যন্ত উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করেছে আল কুরআন। কুরআন বলে কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই ,সমস্ত মানুষ মর্যাদার দিক থেকে সমান। তারাই শ্রেষ্ঠ যারা যোগ্যতা ও চারিত্রিক গুণাবলীতে উত্তম। কোরআন বলেছে সমস্ত মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে একই নারী এবং পুরুষ থেকে। সুতরাং রক্তের সম্পর্কে তারা সকলে সমান, কেউ ছোটো কেউ বড় নয়। সকলের অধিকার সমান, সকলের মর্যাদা সমান। কেউ কারো প্রভু নয়, কেউ কারো দাস নয়। আজকের মুসলিম সমাজ এই শিক্ষা ভুলতে বসেছে। তাদের মধ্যে বংশগত কৌলিন্য জাত ভেদাভেদ এসব শুরু হয়েছে। অথচ কুরআন এ  শিক্ষার বিরুদ্ধে । যদি মুসলমানরা কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করতো এবং মানবতাকে পথ দেখাতে পারতো তাহলে আজকের বিশ্বে এইভাবে জাতিভেদ প্রথা থাকতো না। বিপুল সংখ্যক মানুষকে ছোট জাত মনে করে তাদেরকে মানবীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যেত না।তাই আজকে আমাদেরকে কোরআনের শিক্ষা গ্রহণ করে সেই অনুযায়ী জীবন গঠন করতে হবে।” অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আয়াতুল্লাহ ফারুক,মুফতি তাহেরুল হক, এসআইও-র সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ আলি,জনসংযোগ সম্পাদক সুজাউদ্দিন আহমেদ, হাফেজ মাওলানা আহমেদ আলি,আজম হোসেন প্রমুখ। এদিন আলোচকরা বলেন,”যা কিছু মানুষের জন্য ক্ষতিকর তা বিজ্ঞান হতে পারেনা আর ইসলামই বিজ্ঞানের জনক।”