শরণার্থীদের উইপোকার সাথে তুলনা করে অমিত শাহ যে বক্তব্য রেখেছেন তা অমানবিক : শরদিন্দু উদ্দীপন

0

সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : ‘অর্থনৈতিক দুর্নীতি এবং গুজরাতে নরহত্যা সংগঠিত করার দায়ে যে অমিত শাহ দুদিন পরে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবেন তিনি ভারতের ১ কোটি শরণার্থীদের তাড়াবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন। শরণার্থীদের উইপোকার সাথে তুলনা করে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা তার অমানবিক এবং নীচ মানসিকতার প্রকাশ।’ ঠিক এই ভাষাতেই বিজেপি অধ্যক্ষ অমিত শাহকে একহাত নিলেন বহুজন সলিডারিটি মুভমেন্টসের নেতা শরদিন্দু উদ্দীপন।

এই দলিত নেতা বলেন, ‘একেবারে পাতি রকবাজের মত তিনি যে ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন তাতে বোঝা যায় দেশ বিভাজনের সাথে সাথে নাগরিকদের পুনর্বাসন নিয়ে যে চুক্তিগুলি সম্পন্ন হয়েছে তার কোন খোঁজই রাখেন না এই অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যখন পার্লামেন্টে আশ্বাস দিচ্ছেন যে, কোন বৈধ নাগরিককেই জোর করে বেঘর করবেন না তখন অমিত শাহর এহেন উক্তি একেবারে বেমানান এবং হটকারী।

এনআরসি তালিকার বাইরে যারা আছেন তাদের পুশব্যাকের কথা বলা হচ্ছে। আমরা অমিত শাহর কাছে জানতে চাই কোথায় পুশব্যাক করা হবে এই মানুষগুলিকে? বাংলাদেশ সরকার তো পরিষ্কার বলে দিয়েছে তারা এই ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা মানুষদের ঢুকতে দেবে না।  পাকিস্তানে পুশব্যাক করার তো কোন প্রশ্ন ওঠে না। তবে? কোথায় রাখা হবে এই এক কোটি মানুষকে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে অমিত শাহদের ধান্দা আলাদা। নোটবন্দি করে এরা দেশের খাজানা লুটে নিয়েছে। যে চল্লিশ চোরদের দ্বারা এরা দেশের খাজানা হাতিয়েছে তারা এখন বহাল তবিয়তে বিদেশে বাস করছে। বাকি আছে শ্রমজীবী, কৃষিজীবী এবং দেশ ভাগের বলি অসংখ্য নিরীহ মানুষ। এরা নিজেদের কায়িক শ্রমের দ্বারাই কিছু জমি, জায়গা, ঘরবাড়ি করে দীর্ঘকাল ধরে নাগরিক জীবনযাপন করছেন। অমিত শাহরা এত লোভী যে এই মানুষগুলিকেই ছিন্নমূল করে তাদের স্থাবর অস্থাবর হাতিয়ে নেবার চক্রান্ত শুরু করেছে। এনআরসি আসলে এই খেটে খাওয়া দলিত-বহুজনের সম্পদ লুটে নেবার ষড়যন্ত্র। অমিত শাহ এই লুঠেরাদেরই বড় পান্ডা।’

উল্লেখ্য, আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জীতে স্থান না পাওয়াদের বাংলাদেশি উইপোকা আখ্যায়িত করে খুব দ্রুত তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিত শাহ। আগামী ডিসেম্বরে রাজস্থানে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার সেখানে এক জনসভার আয়োজন করে বিজেপি। জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, এনআরসি প্রকাশিত হলেই প্রতিটি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হয়ে যাবে। খুব তাড়াতাড়ি এই উইপোকাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হবে।