আশ্বাসেই সার! বাঁশের সেতু দিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে সুতির পারাইপুরের বাসিন্দাদের

0
নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : নীচে নদী, উপরে ব্রিজ, কিন্তু ব্রিজের উপর দিয়ে এপারওপার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নদী পারাপার হতে গেলে বাঁশের তৈরি ‘ফড়শ’ই ভরসা মানুষের। ব্রিজে চেপে পার হোক অথবা ব্রিজের পাশ দিয়ে উভয় ক্ষেত্রেই লাগবে বাঁশের সেতু! সেই বাঁশের সেতু পার হতে গিয়েও আবার লাগবে দশ টাকা! হ্যা, এমনই এক ব্রিজের অসহায়ত্ব অচলাবস্থার চিত্র লক্ষ করা গেলো মুর্শিদাবাদের সুতি-১ ব্লকে। ফলে বর্ষার সময় আসলেই চরম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় এলাকার মানুষকে।
বছর পাঁচেক আগে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিলো সুতি ব্লকের পারাইপুর সোভারঘাট ব্রিজ। নির্মাণ কাজ ভালোই চলছিলো। পিলার দিয়ে সারি করে ঢালাইও করা হয়েছিলো ব্রিজটি। কিন্তু হঠাত বছর দুয়েক আগে ব্রিজের কাজ অসম্পূর্ণ করে  কাজ বন্ধ করে দিয়ে চলে যায় কন্ট্রাক্টররা। কি হয়েছিলো কেউ জানে না। ব্রিজে উঠানামার কোনো ব্যবস্থা নেই, শুধু মধ্যেকার ব্রিজ। আর তাতেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার বাসিন্দারা। পারাইপুর, সোভারঘাট, ভিলিয়ান, অমরপুর, কানাইপুর ও লোকাইপুর গ্রামের বাসিন্দাদের বাজারঘাট,স্কুল কলেজ, হাসপাতাল  যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। নদীর জল শুকিয়ে যাওয়ায় গ্রীষ্মের সময় কোনোরকমে ব্রিজের তল দিয়ে যাতায়াত করা গেলেও নিরুপায় বর্ষার সময়। বছর ছয়েক আগে নিজেদের হাতে তৈরি করা বাঁশের ফড়শ দিয়ে যাতায়াত করতো স্থানীয় মানুষ, তাদের কথা মাথায় রেখে নাজিরপুর থেকে আমুহা যাওয়ার একটি রাস্তার উদ্বোধন করেন ততকালিন সাংসদ প্রনব মুখোপাধ্যায়। সেই রাস্তার মধ্যেই পড়ে ব্রিজটি।সেই রাস্তার কাজটি সম্পন্ন হলেও বাকি থেকে যায়  ব্রিজ তৈরির কাজ। তারপর আবার ব্রিজ তৈরির কাজ চালু হলেও বছর দুয়েক আগে সেই ব্রিজের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অচল হয়ে পড়ে থাকে সেই ব্রিজ। আজও অচল। মানুষ যাতায়াতের কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। নদীতে জল চলে আসলেই চরম সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। ফলে সেই সমস্যা সমাধানে আগের মতো ফের বাঁশের ফড়শ তৈরি করেন এলাকার মানুষ। ব্রিজের উঠার পথে একটা ফড়শ, আবার নামার পথে আরেকটা ফড়শ। সেই ফড়শ দিয়েই নিত্যদিন পাঁচটি গ্রামের প্রায় হাজার দশেক মানুষ যাতায়াত করেন। কোনো গাড়ি যেতে পারে না ব্রিজের উপর দিয়ে শুধু মানুষ, সাইকেল ও বাইক। পারাইপুর এলাকার কোনো গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতাল অথবা কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতাল নিয়ে যেতে হলে খাটিয়াতে করে ব্রিজ পার করে দিয়ে আম্বুলেন্সে চাপাতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম, তৌসিফ আলমদের বক্তব্য,ব্রিজের এই দুরাবস্থার দিকে কারো নজর নেই,অসুস্থ কাউকে হাসপাতাল নিয়ে যেতে চাইলে ২০ মিনিট ধরে হেটে খাটিয়াতে করে নিয়ে এসে গাড়িতে তুলতে হচ্ছে, অনেক সময় রোগীর জীবনমরণ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যায়। এব্যাপারে প্রশাসনের কোনো ভ্রক্ষেপ নেই। পারাইপুরের এক স্কুলছাত্র আসমাউল সেখের কথায়, ব্রিজের কাজ অর্ধেক করে দিয়ে আরো আমাদেরকে বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ব্রিজে উঠার রাস্তা না থাকায় নিচ দিয়ে ফড়শ করে যাতায়াত করতে হচ্ছে আমাদের, প্রতিদিন ফড়শ দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে আমাদের ভীষন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অতি দ্রুত এই ব্রিজ তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
এবিষয়ে সুতির বিধায়ক হুমায়ন রেজা জানান, ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় মানুষের ভীষন সমস্যা হচ্ছে, আমরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি সাংসদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, উনি দেখবো বলেছিলেন কিন্তু এখন কি অবস্থা হয়ে আছে তা আমার কাছে খবর নেই।
tdn_bangla_ads