নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : “আমেরিকার সম্মান পেয়েছি কিন্তু নিজের রাজ্যের সরকার কোনও দিন সম্মানিত করলেন না”- দুঃখ করে টিডিএন বাংলাকে কথাগুলি বলছিলেন বিশ্ব সোনাজয়ী কলকাতার কেরাটে মেয়ে আয়েশা নুর। আয়েশা বলেন,”আমি গরিব ঘরের মেয়ে।

বাবা নেই, একটা কুড়ে ঘরে থাকি। সংসার চলেনা। খেলতে গিয়ে যে যে পুরস্কার পেয়েছি সব দিয়ে মায়ের মুখে হাসি ফুঁটিয়েছি।”

দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের পর আয়েশা নূর সিদ্ধান্ত নেন তিনি এক লক্ষ মেয়েকে ফ্রি কেরাটে প্রশিক্ষণ দেবেন। সেই থেকে হাজার হাজার মেয়ে তাঁর কাছে খেলাটি শিখছে। এর জন্য মেনেকা গান্ধী ধন্যবাদ জানিয়েছেন কলকাতার বস্তি মেয়ে আয়েশাকে। অনেকেই তাঁকে কলকাতার ‘কারাটে কন্যা’ বলেন। ছয় বছর বয়স থেকে বেনিয়াপুকুরের এই মেয়ে দাদার দেখাদেখি কারাটে শেখা শুরু করেছিলেন। আর্থিক অনটনের মধ্যেই দেশের জন্য সোনা ছিনিয়ে আনেন। তবে আয়েশা শুধু খেলোয়াড় নন, তিনি নারী আন্দোলনের এক কর্মী। কলকাতার কেরাটে শিক্ষক এম এ আলি বলেন, “নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শ্লীলতানির বিরুদ্ধে নারীদেরকেই লড়াই করার পথ দেখাচ্ছেন আয়েশা। আত্মরক্ষার জন্য কারাটে শেখাচ্ছেন মেয়েদের। টার্গেট বছরে এক লাখ মেয়েকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার মেয়ে ওঁর কাছে আত্ম রক্ষার ট্রেনিং নিচ্ছে।” বর্তমানে আয়েশা ভালো নেই। চরম দারিদ্রতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দিন।
ওই শিক্ষকের অভিযোগ, “শাসক দলের অনেক নেতা মন্ত্রী আয়েশা কে নিয়ে মঞ্চে ছবি তুললেও কেউ অর্থ সাহায্য বা পুরস্কার দেয়নি। আমি চাই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার আয়েশার পাশে দাঁড়াক।”

বিশ্ব সোনাজয়ী এই কন্যা ছোট থেকেই এপিলেপ্সিতে ভুগছেন। বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকেন। তবে কিছু করার অদম্য জেদের কাছে হার মেনেছে সব শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সমস্যা। তিনবার সেরার শিরোপা পেয়েছেন আয়েশা। দুবার পুরস্কার জিতে এনেছেন থাইল্যান্ড থেকে। আমেরিকা সহ বিশ্বের বহু দেশের কাছে যে কন্যা মহামূল্যবান, দেশের মাটিতে তাঁর জন্য কিছু করার কেউ নেই কেন? প্রশ্ন তুলছেন আয়েশা নুরের শিক্ষক এম এ আলি।

বিশ্ব কেরাটি প্রতিযোগিতায় তিন বার বিশ্ব সোনা জয়ী কলকাতার মেয়ে আয়েশা নূর বলেন, “আজ মেয়ে চুরি হচ্ছে। নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে নারী, ধর্ষণ হচ্ছে। তাই মেয়েদেরকে নিজেদের বাঁচার পথ খুঁজতে হবে। কেউ কাউকে বাঁচায় না,নিজেকে বাঁচতে হয়। মেয়েদের সব সময় বাঁচানোর জন্য পুলিশ প্রশাসন থাকেনা। তাই নিজেকে বাঁচানোর কৌশল শিখতে হবে।”

আয়েশার ক্যাম্পে ১২ জন ট্রেনার আছেন। ভারত ছাড়াও দুনিয়ার এক লক্ষ মেয়েকে আত্মরক্ষার জন্য কেরাটি শেখানো তাঁদের টার্গেট।
প্রতিদিন ৭০০ শিশু বিনামূল্যে কেরাটি শেখে বলে জানা গেছে।

২০ বছর বয়সি কলকাতার আয়েশা ইতিমধ্যেই তিনবার আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন। মূল ধারার বহু মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে খবর হয়েছে। কলকাতার বেনিয়াপুকুরের বস্তির মেয়ে আয়েশা পরিবারের দারিদ্রতা এবং শরীরে বাসাবাধা মারনরোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি অর্জন করেছেন। আয়েশা ছাড়াও বিশ্বের পাঁচটি দেশের পাঁচ মেয়াদের চরিত্র তুলে ধরে মহিলাদের উপর সিনেমা  তৈরি করে আমেরিকার একটি সংস্থা। যেখানে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে আয়েশার চরিত্র। যা অনুপ্রাণিত করেছে আমেরিকার প্রশাসনকে। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক ক্যারাটে খেলোয়াড় হিসাবে তাঁকে আমেরিকার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। দিল্লির অনুষ্ঠানে আয়েশার জীবনসংগ্রামের কাহিনি শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছেন আমেরিকা প্রশাসনের আধিকারিকরা। কিন্তু বাংলার সরকার তাঁকে সেইভাবে সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ। আয়েশা এখন অসুস্থ। টাকা নেই। প্রতিটি রাত কাটছে হতাশার মধ্যে। আজ আয়েশার পাশে দাঁড়ানো দরকার। টিডিএন বাংলার পক্ষ থেকে আবেদন, বাবা হারা বাংলার গর্ব এই স্বর্ণ কন্যাকে অর্থ সাহায্য করে তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করুন। দান পাঠান এই একাউন্টে-

AYESHA NOOR
Savings Account No: 0088010250894
United Bank of India
Entallly Branch
156 A J C Bose Road, Kolkata-700014.
IFSC Code: UTBI0ENT131

দরকারে ফোন করতে পারেন এই নম্বরে 
8777860897