এরাজ্যে তৃণমূলের বুকের মাঝে রয়েছে বিজেপি, ঘাসফুল আর পদ্মফুল একে অপরের পরিপূরক : সূর্যকান্ত মিশ্র

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গরিব মানুষের ঐক্য ভাঙতে তৃণমূল ও বি জে পি মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা লাগাতে ঘাসফুল আর পদ্মফুল একে অপরের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে চলছে। রামনবমীতে হনুমান সাজা তৃণমূলের বুকের ভেতর তো বসে আছে বি জে পি। তৃণমূলের বিকল্প হিসাবে রাজ্যে বি জে পি-কে তুলে ধরতে পথ করে দিচ্ছে আসলে তৃণমূলই। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়িতে বামফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মীসভায় তৃণমূল ও বি জে পি-র অশুভ আঁতাতের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন তীব্রতর করার আহ্বান জানিয়ে একথা বলেন সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র। রবীন্দ্র ভবনের কর্মীসভায় সূর্য মিশ্র বলেন, রামায়ণে হনুমান বুক চিরে দেখিয়েছিল তার বুকের ভেতর রয়েছে রাম-সীতা। আর এরাজ্যে তৃণমূলের বুকের মাঝে রয়েছে বি জে পি। ঘাসফুল আর পদ্মফুল একে অপরের পরিপূরক। তৃণমূলের বদলে বি জে পি মানে খাল কেটে বড় কুমির আনা। তৃণমূল ছোট কুমির হলে, বি জে পি বড় কুমির। ‘দিদি’ আর মোদী উভয়ের লক্ষ্য উদ্দেশ্য এক। সাম্প্রদায়িকতার ভয়াবহ বিপদের কথা তুলে ধরে সূর্য মিশ্র বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এই বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য। আজ সেই ঐতিহ্য ভেঙে খান খান করে দিতে চাইছে রাজ্য এবং কেন্দ্রের শাসকদল। একমাত্র বাম ও গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিই পারে মানুষের ঐক্য সুদৃঢ় রাখতে।

কর্মীদের ভিড়ে ঠাসা এই সভায় সূর্য মিশ্র এদিন ৩৪ বছরে বামফ্রন্ট সরকারের গ্রামোন্নয়নে সাফল্যের দিকগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের মধ্যে দিয়ে বামফ্রন্ট সরকারই প্রকৃত মানুষের পঞ্চায়েত গড়ে মানুষকে সাথে নিয়ে গ্রামোন্নয়নের কাজে গতি বাড়াতে সচেষ্ট ছিল। অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিশ্র বলেন, গ্রামের সেই মেঠো রাস্তায় প্রথমে মোরাম, তারপর সেই রাস্তা পাকা করে কালো পিচের রাস্তা তৈরি তো বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই। তিনি বলেন, পানীয় জল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া, একফসলি জমিকে দুই ফসল-তিন ফসলি করা, গ্রামে গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করাসহ নানাবিধ উন্নয়নের জোয়ার এনেছিল বামফ্রন্ট সরকার। গরিব মানুষের প্রকৃত মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে ও বামফ্রন্ট সরকারের অবদান ছিল যথেষ্টই। প্রত্যন্ত গ্রামের আদিবাসী পরিবার থেকে উঠে আসা বিলাসীবালা সহিস, পূর্ণিমা বাগদি, ডাক্তার পুলিনবিহারী বাস্কেসহ এই ধরনের মানুষদের হাতেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত তুলে দিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার।

বর্তমান তৃণমূল সরকারের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের সাথে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের তুলনা করে সূর্য মিশ্র বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত, সমিতি, জেলাপরিষদ, পৌরসভা বিরোধীদের দখলে ছিল। সেই সময়ে তো কোথাও কোন অসুবিধা হয়নি। দল ভাঙিয়ে কোনও নির্বাচিত সংস্থা দখল করতে হয়নি বামপন্থীদের। আর আজ কলেজ ছাত্র সংসদ থেকে শুরু করে সব কিছুই দখল করতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আসলে উনি বুঝতে পারছেন প্রতিদিনই ওঁর পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। আর লুটপাট চালাতে গেলে সবকিছু বিরোধীশূন্য হলে সুবিধা হবে। সেই কারণেই সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। সূর্য মিশ্র বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হলে মানুষ প্রতিবাদ ধ্বনিত করবেই। আর সেই প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না যারা তারা মানুষকে ভয় পায়। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান কোথায় থাকবে তা নেত্রী ভালোই জানেন। সেই জন্য নির্বাচন কমিশনকে হাতের পুতুল বানিয়ে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে তুলতে চাইছে শাসকদল। সূর্য মিশ্র এদিন বলেন, মানুষই সব। মানুষই ইতিহাস তৈরি করেন। তাই মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই বামফ্রন্ট প্রার্থীদের জয়যুক্ত করতে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তোলার আহ্বান জানান তিনি। এদিনের সভায় সূর্য মিশ্র কেন্দ্রীয় সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে সরব হন। একই সাথে তৃণমূল ও বি জে পি-কে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলতে মানুষের কাছে বামফ্রন্টের নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।(সৌজন্যে গণশক্তি)

tdn_bangla_ads