প্রত্যন্ত গ্রামে রক্তদান শিবিরে রক্ত দিলো ষাট জন

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : বিড়ি শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রি অধ্যুষিত গ্রাম। দারিদ্রতা, অস্বচ্ছলতার কারণে কেউ শিক্ষা অর্জন করেছে আবার কেউ করেন নি। রক্তদান তো দূরে থাক রক্ত দিয়ে আরেকটি মানুষ কে বাচানো যায় এই ধারনাও নেই এলাকার অনেক মানুষের। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরন করে রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বুঝাতে এলাকার শিক্ষিত যুবরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করে এই প্রথম প্রত্যন্ত গ্রামে রক্তদান শিবির করার উদ্যোগ নেই রবিবার। গোটা গ্রামেই মাইকিং করে প্রচার করার পর এই শিবিরে সবাইকে চমকে দিয়ে রক্ত দিলো ষাট জন সাধারন মানুশ। এলাকার শিক্ষকেরা যেমন রক্ত দিতে এসেছিলেন, ঠিক তেমনি অসুস্থ মানুষের জন্য রক্ত দিলেন বিড়ি শ্রমিক, রাজমিস্ত্রিরাও। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের জয়কৃষ্নপুর গ্রামের মানুষের রক্তদানের এই স্বত:স্ফুর্ততায় বেজায় খুশি উদ্যোক্তা জয়কৃষ্নপুর যুব সংঘ ক্লাবের সদস্য থেকে শুরু করে থানার ওসি অমিত ভকত সকলেই।

বিড়ি শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি অধ্যুষিত গ্রামে এত মানুষের রক্তদানে খুশি হয়ে সামশেরগঞ্জ থানার ওসি অমিত ভকত বলেন, সত্যিই আজ প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ যেভাবে রক্ত দিতে সাগ্রহে এগিয়ে এলো তা আমাদের অনুপ্রেরণা। জয়কৃষ্নপুর যুব সংঘ ক্লাবের সভাপতি সোলেমান আনসারি  জানান, রক্তদান শিবির করার আগে বারবার ভাবছিলাম কেউ রক্ত দিবে কি না? তার জন্য শিবিরের আগে আমরা এলাকায় রক্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্যপক সচেতনতা করি। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে গ্রামের বিড়ি শ্রমিক থেকে রাজমিস্ত্রি, সাধারণ মানুষ সব মিলিয়ে ষাট জন রক্ত দান করে আমাদের মনোবল কে আরো বাড়িয়ে দিলেন। রক্ত দিয়ে বেরিয়ে এসে গ্রামেরই বিড়ি শ্রমিক এ যুবক সাহেব আলি জানালেন, আমার রক্ত দিয়ে যদি আরেক জন মানুষ প্রাণে বাচে তাহলে আমরা সবসময় রক্ত দিতে রাজি।

এদিন রক্তদান শিবিরে ওসি অমিত ভকত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার শিক্ষক মোহা: আব্দুল কারিম, তৃনমূলের ব্লক সভাপতি সহিদুল ইসলাম, কৃষক নেতা বজলুর রহমান প্রমুখ।