ব‌ই আলোচনা : ‘সর্প মানব : নাগমণি রহস্য’

0

হামিম হোসেন মণ্ডল, টিডিএন বাংলা : একটি কাল্পনিক শিহরণ জাগানো দুঃসাহসিক সুদীর্ঘ অভিযান কাহিনী, সুমন সেনের ‘সর্প মানব : নাগমণি রহস্য’ সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দিগন্ত পাবলিকেশন’-এর একটি অন্যতম সিরিয়ালিটিক কাল্পনিক গল্পগ্রন্থ, যেখানে দুঃসাহসিক একটি কাল্পনিক চরিত্রের উদ্ভব ঘটিয়েছেন লেখক।

বইটিতে সেই সৃষ্ট হিরো হল ‘রঘুবীর’, রঘুবীর রাঠোর। সে ‘সর্প মানব’। না, সাপ রূপি নয়, সে সর্প প্রজাতির উপর গবেষণা করে, ‘হার্পেটোলজি’ বিষয়ে পড়াশোনা করে।

গল্পে রঘুবীর নাগমণির সন্ধান করে একসময় পেয়ে যায় এবং তা খোয়ানোর ভয়ে ও গোপন রাখতে নিজের শরীরের মধ্যে লুকিয়ে (স্থাপন) রাখে। শারীরিক অসুস্থতা লক্ষ্য হয়। সে বুঝতে পারে দেহে নাগমণি লুকানোর ফল। পরবর্তি ও বিস্তারিত জানতে রহস্যের সন্ধানে বইটি পড়তেই হবে।

একসময় রঘুবীর ড্রীমল্যাণ্ড সার্কাসে প্রদর্শনী করে, নাম হয় ‘সর্প মানব’। ২০১৭ সালে, তিহার জেলে কয়েদী হিসেবে গল্পের সমাপ্তি ঘটে। তখন সত্যিকারের সর্প মানবের দৃষ্টান্ত ধরা পড়ে। সে কামড়ায়, সেকেণ্ডের মধ্যে মুখে গ্যাঁজলা উঠে মারা যায় অন্যান্য কয়েদীরা। কেন এমনটা হল? রহস্য জানতে বইটি পড়তেই হবে। অতিসংক্ষেপে বলতে গেলে, নাগমণি রঘুবীরের জীবনকে কিভাবে কোন্ কোন্ মোড়ে ঘুরিয়েছে – তাই নিয়েই এই গল্প। সাপের মণি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া রয়েছে।

গল্পে আবিষ্কৃত হয়েছে কিছু পদার্থ। অন্যতম হল ‘জাইলোপোল’, ‘যা থেকে পাওয়া যাবে অফুরন্ত ক্ষমতা’। “ক্ষমতা! ক্ষমতা! ক্ষমতা! ক্ষমতাই হ’ল সেই জিনিস – যা মানুষকে সম্মান দেয়, অক্ষমকে সাহায্য করতে শেখায়, নতুন কিছু করার সাহস জোগায়। …”

গল্পে অনেকগুলি চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়। বেশকিছু তথ্যও রয়েছে এখানে, তবে কাল্পাশ্রিত। কথোপকথন, নাটকীয়তার আশ্রয় রয়েছে। সম্পূর্ণ রূপে থিলার বলা চলে। এতোগুলো চরিত্র, এতোগুলো ঘটনা, কল্পনার বাঁধনে সুন্দর ভাবে পরিবেশিত বইটি, মোট ১২৮ পৃষ্ঠার বোর্ড বাইন্ডিং ও সুন্দর কাভার প্রিন্টিং-এ সুদর্শন আইএসবিএন যুক্ত বই, সুমন সেন-এর চর্চিত বইয়ের একটি। বইটি লেখক তাঁর দুই মা, কুমারী গৌরী সেন ও শ্রীমতি গৌরী সেন-কে উৎসর্গ করেছেন।