প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মাধ্যমিকে ৬৭ শতাংশ নম্বর মুবাশশিরের

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, ইসলামপুর: প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে এবছর হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় ৬৭ শতাংশ নম্বর পেল মুবাশশির। বাড়ি তার মুর্শিদাবাদ জেলার ইসলামপুর থানার অন্তর্গত নশিপুর গ্রামে। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। নিজের পায়ে হাঁটা চলা করতে পারে না। ট্রাই সাইকেলই ভরসা। ট্রাই সাইকেলে করেই স্কুল সহ অন্যান্য জায়গায় যাওয়া। হাতের তেমন শক্তি পায় না। তবুও রাইটার ছাড়াই বসেছিল জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায়। নশিপুর হাই মাদ্রাসার এই ছাত্র মুবাশশির হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় পেয়েছে ৫৩৬ অর্থাৎ ৬৭ শতাংশ নম্বর।

মুবাশশিরের প্রাপ্ত নম্বর বাংলা ৭৬, ইংরেজি ৭১, গণিত ৫৪, পদার্থবিজ্ঞান ৬০, জীবনবিজ্ঞান ৭৪, ইতিহাস ৬৫, ইসলাম পরিচয় ৮০ । আসা ছিল স্টার মার্ক পাওয়া, কিন্তু পেয়েছে ৬৭ শতাংশ। তবে অখুশি নয় সে। পিছনে আর না তাকিয়ে সামনে আরও এগিয়ে যেতে চায় মুবাশশির। ইচ্ছে ভবিষ্যতে ইতিহাস বিষয়ে অধ্যাপনা ও গবেষণা করা। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা তার শারীরিক সমস্যা। তবুও অদম্য এই মেধাবী।

মুবাশশিরের বাবা শামসুল আলম পেশায় একজন শিক্ষাবন্ধু। মা মুস্তারি বানু। গোসল থেকে শুরু করে বাথরুম সমস্ত‌টা মায়ের সাহায্যে করে থাকে। ছোটবেলায় নশিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে মুবাশশির। তারপর ভর্তি হয় বাড়ির কাছের স্কুল নশিপুর হাই মাদ্রাসায়। এই মাদ্রাসায় সে কলা বিভাগে ভর্তি হবে একদশ শ্রেণিতে। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান বলেন, মুবাশশির ক্লাসেও খুব ভালো রেজাল্ট করত। সে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জীবনের এই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বসেছিল, এবং সাফল্য ও পেয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও সে খুব মেধাবী ছাত্র। দেশ বিদেশের সমস্ত খবর এক নিমেষেই তার কাছে পাওয়া যাবে। রাজনীতি থেকে শুরু করে খেলা, জার্মান- তুরস্ক থেকে শুরু করে আমেরিকা- ব্রিটেন গোটা বিশ্বের খবর তার কাছে আপডেট। তার সারাক্ষণের সঙ্গী পুরনো যুগের সেই মাধ্যম রেডিও। সাথে পেপারও পড়ে নিয়মিত। ইসলামী সঙ্গীতের দিকেও ঝোঁক রয়েছে তার। বেশ কয়েকটি সঙ্গীত সে নিজে রচনা করেছে ও সুর দিয়েছে। পিতা-মাতা সহ তারও দুচোখে স্বপ্ন প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বহুদূর এগিয়ে যাবার।