তিন তালাক বিল প্রত্যাহারের দাবিতে কলকাতায় মহিলাদের পথসভা-সমাবেশ, রাজ্যপালকে ডেপুটেশন

0

সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : তিন তালাক বিল প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপালের কাছে ধারাবাহিকভাবে ডেপুটেশন জমা দিচ্ছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল’ বোর্ড। এইবার বোর্ডের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের কাছেও ডেপুটেশন জমা দেওয়া হল। আজ রাজ্যের হাজার হাজার মুসলিম মহিলাদের নিয়ে মুসলিম ইনিস্টিটিউট হলের কাছ থেকে একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল ল’ বোর্ড। এই মিছিল ধর্মতলায় গিয়ে রুপান্তরিত হয় এক বিশাল জনসমাবেশে। এই মিছিল শেষে ল’ বোর্ডের কয়েকজন সদস্য-সদস্যার একটি দল রাজ্যপালকে ডেপুটেশন জমা দিতে যান।


ডেপুটেশনে রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে লেখা হয়, ‘লোকসভায় সম্প্রতি পাশ হওয়া বিবাহ অধিকার রক্ষা আইন ২০১৭ বিলের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম মহিলাদের ভাবাবেগকে অনুভূত করে আমরা এই ডেপুটেশনে স্বাক্ষর করলাম। বিলটি উচ্চপর্যায়ের ধর্মীয় নেতাদের এবং বিশেষজ্ঞদের সাথে কোনওপ্রকার আলোচনা ছাড়াই পাশ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পর এই বিলটি পাশ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিলটি সম্পূর্ণ রুপে ভারতীয় সংবিধান এবং নারী ও শিশু অধিকারেরও বিরোধী। বিবাহ অধিকার রক্ষার এই বিল পুরোপুরি অসামাজিক। কারন বিলটি বেসামরিকভাবে ভবিষ্যতে ফৌজদারি অপরাধে পরিনত হবে। আমরা এই বিলকে বাতিল ঘোষণা করলাম। সম্প্রতি পার্লামেন্টে বক্তৃতায় মাননীয় রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেছিলেন যে, মুসলিম মহিলারা রাজনৈতিকভাবে বন্দি। আমরা তাঁর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধেও আপিল করলাম।’

ডেপুটেশনে আরও বলা হয়, ‘বিলটিকে মুক্ত করার এবং মুসলিম মহিলাদেরকে সম্মান এবং সুবিচারের জীবনযাপনের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করছি। মাননীয় রাষ্ট্রপতির মুখে উচ্চারিত এই ধরণের উক্তি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর সম্প্রদায়ের জন্য অপমানজনক। মুসলিম মহিলাদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ ডেপুটেশনে তিন দফা দাবি পেশ করে বলা হয়, ‘মহিলা সুরক্ষা সংক্রান্ত বিলটিকে প্রেসিডেন্ট জয়েন্ট পার্লামেন্টারি থেকে বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। সরকারকে আবেদন করা হচ্ছে যে, দ্বিতীয় বৃহত্তর গোষ্ঠীর ভাবাবেগকে যেন আহত না করা হয়। যেহেতু এই বিলটি ভারতীয় সংবিধান এবং মহিলাদের স্বার্থ বিরোধি তাই এই বিলকে উঠিয়ে নেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে।


এই ডেপুটেশনে স্বাক্ষর করেন জামায়াতে ইসলামি মহিলা শাখা নেত্রী নায়েমা আনসারি, সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, জিআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সফিউন্নেসা খাতুন, ডা. নীলাম গাজালা, আসমত জামীল, মাহফুজা খাতুন, সারাফত আবরার প্রমুখ। এছাড়া আজকের মিছিল ও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন পারসোনাল ল’ বোর্ডের আবু তালিব রহমানি, জামায়াতে ইসলামীর রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন, ল’ বোর্ড সদস্য ডা. রইসুদ্দিন, ক্বারী সামসুদ্দিন প্রমুখ। জামায়াতে ইসলামী হিন্দের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে জোর প্রচার চালানো হয়েছিল এই মিছিলকে সফল করার জন্য। এছাড়া এদিন জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রী সংগঠন জিআইও-র বহু কর্মী উপস্থিত ছিলেন।


আজ দুপুর ১:৩০টা নাগাদ মুসলিম ইনিস্টিটিউট হলের কাছ থেকে শুরু হওয়া মিছিলে হাজার হাজার হাজার মুসলিম মহিলারা যোগ দেন। কলকাতা সংলগ্ন জেলাগুলি থেকে প্রচুর সংখ্যক মহিলারা এই এই র‍্যালিতে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। এদিন মিছিলে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উল্লেখযোগ্যভাবে এই র‍্যালিতে পা মেলান মায়ানমার থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ১৫ জন রোহিঙ্গা মহিলা। তাঁরা বাচ্চা কোলে নিয়েই এই র‍্যালিতে শরিয়তের পক্ষে পা মেলান। এছাড়া একজন মহিলা হুইল চেয়ারে বসে মিছিলে এসেছিলেন তালাক বিলের বিরুদ্ধে। এদিন কড়া পুলিশি প্রহরার পাশাপাশি ট্রাফিক কন্ট্রোলের জন্য অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশও নিয়োগ করেছিল কলকাতা পুলিশ।