দুই হাত পা অক্ষম! ডোমকলের প্রতিবন্ধী ‘ব্রিলিয়ান্ট বয়’ রবিউল আজ মাধ্যমিক পরীক্ষায়

0

কিবরিয়া আনসারী, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: গরীবের আর কে আছে। তবুও তাদের জীবনেও কিছু স্বপ্ন আছে। প্রতিবন্ধী ছেলে রবিউল ইসলাম কে নিয়ে সেই স্বপ্নই দেখেছে বাবা লুতফর রহমান। প্রতিবন্ধী রবিউল এর স্বপ্ন সে বিএ পর্যন্ত পড়বে। ছেলের স্বপ্ন কে পূরণ করতে বাস্তব জীবনের সঙ্গে লড়াই করে চলেছে বাবা, মা উভয়েই। মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল ব্লকের শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। সব বাঁধা পেরিয়ে আজ সে মাধ্যমিক পরিক্ষাই বসছে।

রবিউল গ্রামে ‘ব্রিলিয়ান্ট বয়’ নামেই পরিচিত। এক ডাকে সবাই চেনে ‘ব্রিলিয়ান্ট বয়’ কে। সব শ্রেনীতেই ৯০ শতাংশের উপর রেজাল্ট তার। তারপরও মেলেনি প্রশাসনের তরফে কোনো সাহায্য। না পেয়েছে একটি হুইল চেয়ার, না পেয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা। প্রশাসনের কাছে গেলেও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাকে। তাই রবিউল এর বাবা চাষবাস করেই ছেলের স্বপ্ন পূরণে লড়াই করে চলেছে।

প্রতিবন্ধী রবিউল কে নিয়েই সারাদিন কেঁটে যায় তার মায়ের। ছেলে কে স্কুলে কোলে করে রেখে আসা। স্কুল শেষে আবার তাকে বাড়ি নিয়ে আসা। গোসল করানো থেকে খাইয়ে দেওয়া সবটাই করতে হয় তার মা কে। বহুকষ্টে পড়াশোনা করাতে পারলেও। পারেনি ছেলে কে একটি ভালো টিউশনে দিতে।

রবিউল এর বাবা লুতফর রহমান চোখে একরাশ জল নিয়ে বললেন, আল্লাহ গরীব করে পাঠিয়েছে এটা তারি ইচ্ছে। পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দিতে সারাদিন মাঠেই পড়ে থাকতে হয়। তারপর আবার রবিউল এর স্বপ্ন বিএ পর্যন্ত পড়াশোনা করা। তার জন্য আবার আমাকে সন্ধ্যাতে ভ্যান গাড়ি নিয়ে বেরোতে হয়। এই ভাবেই চলছে প্রত্যেকদিন। বহুকষ্টে সে আজ মাধ্যমিক পরিক্ষাই বসছে। কষ্ট হলেও তার মুখের হাসিতে আমরাও খুশি। তবে জানি না তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব কি না।

তিনি আরও জানালেন, টাকার অভাবে একটি হুইল চেয়ার কিনে দিতে পারিনি ছেলেকে। আজ পরিক্ষা দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাশের গ্রাম থেকে একটি হুইল চেয়ার এক সপ্তাহের জন্য চেয়ে আনলাম।

tdn_bangla_ads