মহ: মোস্তাক আহমেদ, টিডিএন বাংলা, মালদা : অবশেষে মালদার চাঁচল মহকুমার আশাপুরে মহানন্দা নদীতে তলিয়ে যাওয়া এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ফারহান আখতার (রায়ান) এর নিথর দেহ উদ্ধার হল। এদিন রাত্রি ১১টা নাগাদ  নদীর পার্শ্ববর্তী লালগঞ্জ গ্রামের দুই সাহসী তরুণ খাইদুর ও সুজন আলী দীর্ঘ প্রচেষ্টায় দেহটি তুলে এনে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২.৩০টায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এলাকার লোক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সন্ধে ৫টা থেকে উত্তর দিনাজপুর এর রায়গঞ্জ থেকে আসা ডুবুরিরা টানা তিন ঘন্টা অবিরাম খোঁজাখুঁজি করেও সফলতা পাইনি। রাত্রি ৮টা নাগাদ ডুবুরিরা খোঁজ বন্ধ করে দেয়। ফলে ফারহানের পরিবারের লোকজন মৃতদেহ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এই করুন পরিস্থিতিতে এলাকারই কিছু সহৃদয় মানুষ খাইদুর ও সুজন কে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সেখানকার মানুষজন বলে খাইদুর এই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরে এবং জলের ভেতরে অনেক্ষন থাকতে পারে। তাই খাইদুরকে সহযোগিতা করার জন্য তার বন্ধু সুজন আলীও খাইদুর এর সাথে রাত্রি ১০.৩০টা নাগাদ জলে নেমে পরে এবং নাটকীয় ভাবে ১১টা থেকে ১১.৩০টার মধ্যে ফারহানের মৃতদেহ জল থেকে তুলে আনে।এই সফলতার ব্যাপারে খাইদুর বলে “আমি খুব সাধারণ ছেলে। চতুর্থ শ্রেণীর পর আর পড়াশুনা করা হইনি। ছোটবেলা থেকেই নদীতে মাছ ধরি আর তার সুবাদে অনেক্ষন জলের নিচে থাকার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। গ্রামের লোক আমার এই অভিজ্ঞতার কথা জানে তাই তারা আমাকে গিয়ে বলে রায়গঞ্জ এর ডুবুরিরা মৃতদেহ খুঁজে পেলনা, একবার যাতে আমি চেষ্টা করে দেখি। তাই আমি আল্লাহর নাম নিয়ে এই ঘটনায় মাধবপুর গ্রামের এক প্রত্যক্ষদর্শীর দেখানো জায়গায় জলে নেমে পড়ি এবং আধঘন্টার প্রচেষ্টায় সফল হই। এইরকম ঘটনা আমার জীবনে এই প্রথম। আমার খুব ভালো লাগছে যে আমি ছোট এই তরুনের দেহটি জল থেকে তুলে আনতে পেরেছি এবং দেহটি জলে ডুবে থাকার যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়েছি।”

এদিকে ফারহানের আকস্মিক মৃত্যুতে বারোগাছিয়া তথা চাঁচলের সকলেই শোকস্তব্ধ হয়ে পরে। চাঁচলের বারোগাছিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে ফারহান। ভালো ছাত্র হওয়ার সুবাদে এলাকায় পরিচিতিও আছে। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল ও কয়েকদিনের মধ্যেই তার রেজাল্ট। ক্রিকেট খেলায় খুব পারদর্শী ছিল। সিএবি থেকে নোমিনেটেড কোচ শ্রী রাজেশ দাস এর নিকট ক্রিকেট কোচিংও নিত। চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশন এর প্রধান শিক্ষক অসরারুল হক মহাশয় বলেন, “কচি বয়সে এক নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে পড়লো এবং স্কুলের সকলেই গভীরভাবে শোকাহত। আমি স্কুলের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছি।”