ডোমকলে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে থমকে রয়েছে সেতু তৈরীর কাজ, যাতায়াতে বাঁশই শেষ ভরসা এলাকাবাসীর 

0
কিবরিয়া আনসারী, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : ডোমকলে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে থমকে রয়েছে সেতু তৈরীর কাজ, যাতায়াতে বাঁশই শেষ ভরসা এলাকাবাসীর। নিত্যদিন দূর্ভোগের স্বীকার স্থানীয় বাসিন্দারা, বাড়ছে ক্ষোভ। ডোমকল ব্লকের জুড়ানপুর ও গরীবপুর পঞ্চায়েতের চারুনগর এবং গরিবপুর গ্রাম দুটির যোগাযোগের মূল মাধ্যম এই সেতু। পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস, মহকুমা অফিস, বিধায়কেও জানিয়ে কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চারুনগর এবং গরিবপুর গ্রাম দুটিতে ৫ হাজার মানুষের বসবাস। দুই গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সেতু। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চাষবাস, স্বাস্থ্য সবকিছুই নির্ভয়শীল এই সেতুর উপর।
 
তবে বর্তমানে সেতুর উপর দিয়ে বাঁশের মাচা করে চলছে যাতায়েত। স্থানীয় বাসিন্দা আলি কদর অরুফে আলি ব্যক্তিগত ভাবে সেতুর উপর তৈরী করেছে বাঁশের মাচা। ভ্যানগাড়ি নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই বাঁশের মাচা দিয়ে। শুধুমাত্র পায়ে হাটারি যোগ্য। যাতায়াতেরে বিকল্প রাস্তা থাকলেও প্রায় ৭ কিমি ঘুরে তবেই গন্তব্যস্থলে পৌছানো সম্ভব। প্রতিনিয়ত এই ভাবেই সমস্যার সম্মুখিন হয়ে চলতে হয় স্থানীয়দের।
শুধুমাত্র পায়ে হাঁটার জন্য আলি কদর কে দিতে হয় মাথা পিছু ৫ টাকা করে। বাইকের জন্য আলাদা রেট। চাষীদের কোনো টাকা লাগে না। তবে চাষীদের বছরের শেষে দিতে হয় সমপরিমান ফসল। একদিন কেও টাকা দিতে না পারলে তাকে মারধর করে আলি। আলির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ স্থানীয়দের। শোনার কেও নেই বরং দিনের পর দিন আলি কামিয়ে চলেছে মোটা টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আলি এই গ্রামের প্রভাবশালী বলে পরিচিত। তার মুখের উপর কারো কোনো কথা বলার সাহস নেই। আমাদের মুখ বুজে তার কথামতো পারাপারের টাকা দিতে হয়। একদিন টাকা দিতে না পারলে সাইকেল, বাইক, মোবাইল কেড়ে নেয়। টাকা দিয়ে জিনিস ছাড়িয়ে নিয়ে যাবি বলে হুসিয়ারী দেয়। আমাদের হাতে তো আর পুলিশ প্রশাসন নেই। তাই মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। আমরা দুই গ্রামের মানুষ টাকা তুলে সদ্য বাশঁ দিয়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু আলি কদর তা করতে দেয়নি। বরং আমাদের হুমকি দিয়ে বলে এই সেতু আমার। আমি কি করব না করব সেটা আমি বুঝব।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল রানা বলেন, আমাদের সমস্যা দাখার কেও নেই। আজ ৬ বছর ধরে প্রশাসনের দরজায় কড়ানেড়ে কোনো সুরাহা মেলেনি। প্রতিনিয়ত এই সেতু দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়েত। অনেকেই বিপদের সম্মুখিন হয়। কেও জলে পড়ে যায়, বৃদ্ধরা চলাফেরা করতে পারে না। গাড়ি করে রোগীদের নিয়ে যাওয়া যায় না। আমরা সমস্যাকে নিজের সঙ্গী করে নিয়েছি। যদি কোনো দিন সেতু সংস্কার হয় সেটা আমাদের ভাগ্য।
অবশ্য আলি কদর বলেন, সেতু নিয়ে প্রশাসন কি ভাববে? আমি নিজে এক লক্ষ ৬০ হাজার টাকা খরচ করে বাঁশ দিয়ে মাচা করেছি। যাতে মানুষ চলাফেরা করতে পারে। মানুষ পিছু ৫ টাকা করে নিয়। আমারও সংসার চলে যায়। আমার নামে অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না। আমি বিডিও অফিসকেও কিছু দিয়।
ডোমকলের বিডিও টি জি ভুটিয়া বলেন, এতদিন বিষয়টা আমি জানতাম না। তবে আজ জানলাম আমি খোজ নিয়ে দেখছি। আর ওই ব্যক্তি কাকে টাকা দেয় সেটাও দেখছি।
ডোমকলে বিধায়ক আনিসুর রহমান কে এবিষয়ে মন্তব্য জানতে ফোন করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
তবে বর্তমানে দুটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রয়েছে আলি কদরের জন্য। পারাপারের জন্য টাকা নিলেও আলি কদরের সর্মথেনই গ্রামবাসীরা।
head_ads