যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যে সেই সব কলকারখানা ও শিল্প দরকার

 

হামিম হোসেন মণ্ডল, টিডিএন বাংলা, ডোমকল ডোমকলে জনকল্যান ময়দানে চলছে ডোমকল সবলা মেলা। স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে চলছে এই সবলা মেলা – ২০১৬। গত বুধবার বেলা সাড়ে চারটে, ডোমকল জনকল্যান‘ময়দানে আব্দুল বারি মুক্ত মঞ্চ’-এ এই সবলা মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। মেলার উদ্বোধক হলেন শ্রী সাধন পাণ্ডে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপভক্তা বিষয়ক বিভাগ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী, পরিবহন দপ্তর। বিশেষ অতিথি – ডাঃ আবিজ আফতাব, আই.এ.এস., রাজ্য সরকারের স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি বিভাগের প্রধান সচিব। মেলা চলবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত, মেলার সময় রোজ দুপুর ২টো থেকে রাত্রি ৮টা অবধি।

রোজ শিশু বাচ্চাদের কবিতা আবৃতি, গান, নৃত্য প্রভৃতি নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সবলা মেলা সবলতর হচ্ছে। এই মেলায় পাটের তৈরি হাতের কাজ করা সামগ্রি পাওয়া যাচ্ছে। আছে পাটের তৈরি ব্যাগ, পুতুল, ঘর শোভা, পাপোশ, টুপি প্রভৃতি। তবে এখানে বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না, ভালো করে বলতে গেলে এই পাটের দ্রব্যগুলি বিক্রি তেমন হচ্ছে না – বলে জানিয়েছেন এক পাট শিল্পি তথা দোকানদার তথা ব্যাবস্যায়ী। এই মেলায় স্টল দিয়ে ইসলামপুর থানার হুদা গ্রামের ব্যবস্যায়ী আবুল কালাম আইয়ুব টিডিএন বাংলাকে জানান,‘বিক্রি হচ্ছে না বললাই চলে। সেই বেলা ২টো থেকে বসে দিনের শেষে আজ তেমন বেচাকেনাই হয়নি। হাজারতো নয়ই পাঁচশোও পুজবেনা। তবে প্রথমদিন চব্বিশ’শ মতো হয়েছিল।’ পাটের একপিচ্ টুপির দাম কত? – জিজ্ঞেস করাই আবুল বলেন –‘৭০টাকা করে দাম টুপির।’ তিনি টিডিএন বাংলার মাধ্যমে আর্থিক বিষয় সম্পর্কে অর্থাৎ পাটজাত দ্রব্যের উন্নত বানিজ্যকরণ বিষয়টি নিয়ে উন্নত ও আধুনিক চিন্তাভাবনা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন সরকারকে।

মেলা দেখতে আসা কয়েকজন যুবককে এই পাটজাত দ্রব্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে দ্রব্যের প্রসংশা শোনা যায়, কিন্তু কেনাকাটার প্রশ্ন আসতেই তারা এই দ্রব্য কিনতে ভাবভঙ্গিতে অনিচ্ছাই প্রকাশ করে। পড়াশোনার কারণে ডোমকলে থাকা মালদার এক যুবক মাসুদ রানা সরাসরি টিডিএন বাংলাকে বলেন, ‘আধুনিক যুগে আর পাটের এই জিনিস চলে না। সব(কোনে) জায়গাতে এগুলো নিয়ে যাওয়া যাবে না। সম্মানের ব্যাপার! এখন আরও কত ভালো ভালো জিনিস তৈরি হয়েছে! ওই সব আধুনিক জিনিসের সামগ্রি এলে খুব বিক্রি হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যে সেই সব কলকারখানা ও শিল্প দরকার। তা আনা হোক।’