ডবল লাইনের কাজ শুরু : ট্রেন পাবো এই আশাতে বুক বাধছে সামশেরগঞ্জ-সুতির মানুষ

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ  : হাওড়া, শিয়ালদহ যাওয়ার হোক কিংবা কলকাতা, গোটা দিনে হাতেগনা মাত্র দুটো ট্রেন। একটা অতি সকালে আবার আরেকটা রাতে। একটা এক্সপ্রেস, আরেকটা নামেমাত্র এক্সপ্রেস। আর কোনো ট্রেন নেই। গভীর রাতে একটা থাকলেও তাতেও তিল ধারণের জায়গা থাকে না। ফলে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, সুতি এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কলকাতা যাবার একমাত্র ভরসা এই দুটো ট্রেন। দীর্ঘদিন থেকে মানুষের দাবি থাকলেও বাড়ানো হয় নি ট্রেন। ফলে ক্ষোভ বাড়ছিলো জনমানসে। কিন্তু সম্প্রতি কদিন থেকেই রেল সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে এলাকায়। স্বভাবতই কলকাতা মুখী আরো ট্রেনের আশায় বুক বাধছে এলাকার মানুষের। 

মুর্শিদাবাদ জেলার পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম সামশেরগঞ্জ, সুতি ও ফরাক্কা ব্লক। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত  এই এলাকার মানুষদের প্রধান পেশা বিড়ি শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রি। দারিদ্রতা, অসচেতনতা সহ নানান কারণে এখানকার মানুষ শিক্ষা-স্বাস্থ্য সার্বিক দিক থেকেই পিছিয়ে। এলাকা বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত হলেও তাদের জন্য নেই কোনো ভালো সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষাকেন্দ্র। অসুখ হলেই যখনতখন ছুটতে হয় কলকাতার নীলরতন,মেডিক্যাল কিংবা পিজিতে।এলাকার যুবকদের স্কুলে অস্টম শ্রেণীর গন্ডি পেরোতে না পেরোতেই ছুটতে হয় রাজমিস্ত্রি কাজে।  নিত্যদিন শত শত রাজমিস্ত্রি যুবক ট্রেনে করে হাওড়া, হুগলি কিংবা কলকাতায় কাজে যান। কিন্তু এত কিছুর পরেও ফারাক্কা থেকে জঙ্গিপুর পর্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কোনো ট্রেনের ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে। বল্লালপুর, সাকোপাড়া, ধুলিয়ান গঙ্গা, বাসুদেবপুর, নিমতিতা, সুজনিপাড়া, আহিরন স্টেষন গুলোর উপর নিয়ে প্যাসেঞ্জার বাহী ট্রেন মাত্র দিনে তিনটে। সকালে হাওড়া যাবার জন্য মালদা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস  যাওয়ার পর পুরো দিন অতিবাহিত হলেও আর কোনো ট্রেনই নেই, তার পরে আবার রাত্রি আটটার পর এলাকার উপর দিয়ে কাঠিহার এক্সপ্রেস (পূর্বতন মালদা টাউন প্যাসেঞ্জার) যাতায়াত করেন। আবার সবশেষে রাত এগারোটার পর তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস যাতায়াত করে। তিস্তা তোরসা ট্রেন দূর পাল্লার হওয়ায় জঙ্গিপুর সাবডিভিশন এর উপর দিয়ে গেলেও এলাকার কোনো মানুষের ফায়দা হয় না। ফলে স্বভাবিক ভাবেই ইন্টারসিটি এবং কাঠিহারই ভরসা সকলের। কিন্তু ফারাক্কা থেকে জঙ্গিপুর পর্যন্ত যতগুলো স্টেষনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে নিমতিতা এ ধুলিয়ান ছাড়া কোথাও এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়ায় না, যার ফলে এলাকার  অসুস্থ রোগী থেকে শুরু করে রাজমিস্ত্রি, বিড়ি শ্রমিক সকলেরই কলকাতা যাবার একমাত্র ভরসা কাঠিহার এক্সপ্রেস। এই একটি মাত্র ট্রেনে ঠাসাঠাসি করে যাতায়াত করতে হয়  সামশেরগঞ্জ, সুতি এলাকার হাজার হাজার মানুষকে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকার  বাসিন্দাদের। ট্রেন তিল ধারনের জায়গারও অভাব পরিলক্ষিত হয়।

Advertisement
head_ads


এত সমস্যা থেকে বাচতে বারবার এলাকার বাসিন্দারা ট্রেন বাড়ানোর দাবি জানালেও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই প্রশাসনের। ততকালিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ডাবল লাইনের আশ্বাস দিলেও তার পরেও আর কাজ এগোয় নি। সম্প্রতি আবার রেল সম্প্রসারণের কাজ শুরু হওয়ায় ব্যপক খুশি রাজমিস্ত্রি, বিড়ি শ্রমিক এলাকার মানুষজন। সামশেরগঞ্জের বাসুদেবপুরের বাসিন্দা আতাউর রহমান,সাহাদাত হোসেন, মাসুদ আলি রা জানান, একটি মাত্র ট্রেনে খুব কস্ট করে যাতায়াত করতে হয় আমাদের। নেতারা প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো ট্রেন বাড়ানো হয় নি। অবিলম্বে ডবল লাইনের কাজ সম্প্রসারণ করে ট্রেন বাড়ানোর দাবি জানান তারা। ছেলের সাথে চিকিৎসার জন্য কলকাতা মেডিকাল যাচ্ছিলেন বছর ষাটের বিধবা রাবিয়া বেওয়া। কিন্তু ফুটপাত না থাকায় ট্রেনে চাপতে গিয়ে পায়ে আঘাত লাগে তার। তিনি বলেন, আমরা সব কিছু থেকেই বঞ্চিত। ট্রেন নাই, ফুটপাত নেই। কস্টের সীমা নেই।

এদিকে ডাবল লাইনের জন্য ইতিমধ্যেই রেলের দুপাশের সমস্ত দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়েছে। কাজও চলছে দ্রুত গতিতে। ডাবল লাইন হলেই ট্রেন বাড়বে, এই আশায় চেয়ে আছে এলাকার রাজমিস্ত্রি, বিড়ি শ্রমিক রা ।তাদের সেই আশা পুরণ করে আদৌ কি ট্রেন বাড়ানো হবে? উত্তর সময়ই বলবে।

head_ads