অভাব অন্তরায়, উচ্চ মাধ্যমিকে ৯০% পেয়েও পেটের টানে ছুটতে হচ্ছে গাইঘাটার সান্তুনুকে

0

সফিকুল মোল্লা, টিডিএন বাংলা , গাইঘাটা: আর কি পড়া হবে না! এখানেই কি সব শেষ! উচ্চ মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ নম্বর পেয়েও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে এসব নানান প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে কৃতি সন্তান শান্তুনুর মনে। দিন মজুর বাবার পক্ষে ছেলেকে পড়ানোর ক্ষমতা ছিল না। তাই টিউশন করেই নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করে নিত গাইঘাটার এই কিশোর। এহেন পরিশ্রমের ফল, হাতেনাতেই পেয়েছে সে। উচ্চমাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৫০.

ইছাপুর হাই স্কুলের ছাত্র শান্তুনুর এই নম্বর এবার স্কুলের সেরা। তবে এত বড় সাফল্যতেও নির্বিকার এই কিশোর। কেননা ভেবে কী হবে? বাবা সাহায্য করতে পারবেন না সেকথা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। তাই ভাল ফল করেও আপাতত পেটের টানে কাজের খোঁজ শুরু করেছে শান্তুনু। কোনওভাবে সাহায্যের আশ্বাস পেলে হয়তো আরও কিছুদূর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারত। কিন্তু তেমন কোনও সম্ভাবনা না থাকায় বাবার মতোই একটা কাজ জুটিয়ে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামতে তৈরি শান্তুনু।

বাবা শিবুপ্রসাদ বাবু বলেন, ‘আমার ছেলে ভাল নম্বর পেয়েছে সত্যি। কিন্তু বাস্তবটা মানতে হবে। আমি যা রোজগার করি তাতে খাওয়ার খরচই ঠিক মতো জোটাতে পারছি না। তাই ছেলের উচ্চশিক্ষা আমাদের কাছে স্বপ্ন।’ এই প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোক পাল মহাশয় বলেন, ‘শান্তুনু যে এতটা মেধাবী প্রথম দিকে বুঝতে পারিনি। একাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষায় স্কুলে প্রথম হওয়ার পর বুঝতে পারি, ও ভাল ফল করবে। আমরা যতটা পারি সহযোগিতা করব। কিন্তু শান্তুনু যদি আরও কিছুটা সহযোগিতা পেত তাহলে ও ভবিষতে কিছু করতে পারত।’

মেধাবী শান্তুনুর প্রাপ্ত নাম্বার হল ৪৫০. বাংলায় ৮৩, ইংরাজীতে ৭৭,ভূগোলে ৯৩, দর্শনে ৯৫,সংস্কৃতে ৯১, ইতিহাসে ৮৮. দারিদ্রতার গ্রাসে কি হারিয়ে যাবে আগামী দিনের নতুন প্রজন্ম এই চিন্তায় চিন্তিত পরিবার । চাতকের মতো তাকিয়ে আকাশ পানে। পরিবারের করুন আবেদন যদি কোনো কোনো মহৎ ব্যক্তি বা সংগঠন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন তাহলে হয়তো শান্তুনুর স্বপ্ন পূরন হতে পারে। যোগাযোগ: ৯৭৩২৯৪০৭৫৪