হেদায়েতুল্লাহ খান, টিডিএন বাংলা, ডানকুনি : সারা রাজ্যের সরকার পোষিত মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জনের জন্য ২০১৫ সালে শুরু হয় আইটিই প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ ও বিক্রমশীলার যৌথ উদ্যোগে ২০১৫ সালে শুরু হওয়া আইটিই তথা ইন্টিগ্রেটেড এপ্রোচ টু টেকনোলজি ইন এডুকেশন প্রকল্পে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষন চলছে। সারা বছর ধরে বিক্রমশীলা ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরাই প্রশিক্ষন কর্মে রত।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষা এবং প্রকল্প যাতে প্রযুক্তির মাধ্যমে করতে পারে তার জন্য লাগাতার প্রশিক্ষন চলছে বিভিন্ন মাদ্রাসায়। প্রশিক্ষকদের সহযোগিতায় কম্পিউটার, ইন্টারনেট প্রভৃতি ব্যবহার করে হাতে কলমে শিখছে  প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত শিক্ষায় কতটা দক্ষতা অর্জন করেছে, তা প্রত্যক্ষ করতে সরাসরি হুগলী জেলার ডানকুনি সিদ্দিকীয়া সিনিয়ার মাদ্রাসায় পরিদর্শনে এলেন বিক্রমশীলা এডুকেশন রিসোর্স সোসাইটির অধিকর্তা সুভ্রা চ্যাটার্জী, বিক্রমশীলার ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ টাটা ট্রাস্টের শিক্ষা বিষয়ক প্রধান অমৃতা এস পাট্টোবর্ধন সহ এক প্রতিনিধি দল। দিল্লি থেকে আসা অমৃতা এস পাট্টোবর্ধন শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে টিডিএন বাংলাকে জানান, ‘ঠিকঠাক গাইড পেলে এই শিক্ষার্থীরাই মাদ্রাসা শিক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

এদিন বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা প্রজেক্টর, ল্যাব সরঞ্জাম প্রভৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের  মনোমুগ্ধকর উপস্থাপন করেন। শিক্ষার্থীরা প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষামূলক ঘটনা তুলে ধরেন। আবার কোন শিক্ষার্থী ল্যাব সরঞ্জাম ব্যবহার করে সরাসরি অক্সিজেন, নাইট্রোজেন তৈরি করে দেখান।

এদিনের পরিদর্শনে সম্পূর্ন সহযোগিতা করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষক শিক্ষাকর্মী সমিতির রাজ্য সম্পাদক সৈয়দ সাফাকাত হোসেন। তিনি টিডিএন বাংলাকে জানান, ‘আইটিই প্রকল্প আসার ফলে মাদ্রাসা পড়ুয়াদের বিজ্ঞান শিক্ষার প্রভুত উন্নয়ন হচ্ছে। প্রত্যেক মাদ্রাসা এই প্রকল্প চালু করলে পড়ুয়ারা বিজ্ঞান শিক্ষায় নতুন দিশা পাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।